
X
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রুপকার। জাতির পিতা ছিলেন একজন বাস্তববাদী ও দূরদর্শী নেতা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি নিজে যেমন দেখেছেন ঠিক তেমনি এ দেশের মুক্তিকামী জনগণকে দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু মানে একটি দর্শন, একটি চেতনা।
বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও চেতনা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলছি একটি শোষিত-বঞ্চিত জাতির সার্বিক মুক্তির দিকে। জাতির পিতা ও বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়ন দর্শন ছিল অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক মুক্তি-মধ্যস্থতাকারী উন্নয়ন দর্শন, যা বিনির্মাণে নিয়ামক ভূমিকায় থাকবে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্নপূরন এবং ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে জাতিকে উপহার দেন রুপকল্প -২০২১।
রুপকল্প-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্যে বা উদ্দেশ্য ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা যেখানে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে বিমোচিত হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নসহ প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে। রুপকল্প-২০২১ এর সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় গত ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২ এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ঘোষণা দেন এবং উল্লেখ করেন আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ। একই সাথে তিনি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে চারটি স্তম্ভ যথা- (১) স্মার্ট সিটিজেন; (২) স্মার্ট গভর্নমেন্ট; (৩) স্মার্ট ইকোনমি এবং (৪) স্মার্ট সোসাইটি কথা উল্লেখ করেন।
বর্তমানে সরকার নানাবিধ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের সকল সেক্টরকে গুরুত্ব দিতে হবে কেননা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমুলক উন্নয়নের কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে গত তিন দশকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক ১৪টি সূচকে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপ্তি শিল্প-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্নি খাতে পরিলক্ষিত হলেও বিমাখাতে বাংলাদেশের সাফল্য উল্লেখযোগ্য নয় যদিও দেশের আর্থিক খাত বলতে ব্যাংক ও বিমা দুটি নামই চলে আসে। ব্যাংকের মতো বিমাও দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবামূলক আর্থিক খাত যেখানে বীমা হলো নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তর করা।
অন্যভাবে বলতে গেলে, বিমা হলো দুটি পক্ষের মধ্যে একটি আইনি চুক্তি, যেখানে একটি পক্ষ বিমাকারী বা বিমা কোম্পানি এবং অন্য পক্ষটি হলো বিমাকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে বিমাকারী ঝুঁকি গ্রহণ করে এবং বিমাকৃত ব্যক্তি সেই ঝুঁকির বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম দিয়ে থাকে। আধুনিক যুগে মানুষ বিমাকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকে; যেমন যানবাহন বিমা, ভ্রমণ বিমা, সম্পত্তি বিমা, চিকিৎসা বিমা এবং জীবন বিমা পরিকল্পনার অধীনে সুরক্ষা বিমা। অর্থ্যাৎ সকল জীবন বিমা এবং সাধারণ বিমা পরিকল্পনায় মানুষ সাধারণত সম্পত্তি, জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি মৌলিক সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে বিমাশিল্প। বিমা একটি দেশের মানুষের বিমাযোগ্য ঝুঁকির বিরুদ্ধে সম্পত্তি ও জীবনকে রক্ষা করে।
সুতরাং, একটি দেশের জিডিপিতে বিমাশিল্প বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিমা কোম্পানি দ্বারা অর্জিত সকল ধরনের প্রিমিয়াম অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে এবং একই সাথে বিমাশিল্প অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থেকে। এ সমস্ত কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিমার ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং এটি সেবাখাতের নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
আমরা যদি বৈশ্বিকভাবে বিমাশিল্পের দিকে থাকায় তাহলে দেখতে পায় পৃথিবীর উন্নত দেশ সমূহে জিডিপি-তে বীমার অবদান উল্লেখযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ- যুক্তরাজ্যে জিডিপিতে বিমার অবদান ১১.৮%; যুক্তরাষ্ট্রে ৮.১%; জাপানে ৮.১%; হংকংএ ১১.৪%; সিঙ্গাপুরে ৭%; ভারতে ৪.১%; ব্রাজিলে ৩.২% এবং চীনে ৩%। অথচ বাংলাদেশের জিডিপি-তে বিমার অবদান মাত্র ০.৫৬%। এছাড়া, বিমার ঘনত্ব (প্রিমিয়াম পার ক্যাপিটা মার্কিন ডলারে) যুক্তরাজ্য এ ৪৫৩৫ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮৪৬ ডলার, জাপানে ৫১৬৯ ডলার, হংকংয়ে ৩৯০৪ ডলার , ব্রাজিলে ৩৯৮ ডলার , চীনে ১৬৩ ডলার , ভারতে ৫৯ ডলার। পক্ষান্তরে, বিমা প্রিমিয়ামে মাথাপিছু ব্যয় বাংলাদেশে মাত্র ৯ ডলার, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন।
এছাড়া, বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি হাজারে মাত্র ৪ জনের জীবনবিমা রয়েছে যা বিশ্বের সর্বনিম্ন। অর্থাৎ দেশের বেশিরভাগ বিমাযোগ্য জীবন ও সম্পদ বীমার আওতার বহির্ভূত রয়েছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ জনগণ বিমার আওতায় এসেছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশ এখন ব্যাংকিং ছাতার নিচে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতের অন্য অংশের চেয়ে বিমাখাত পিছিয়ে আছে অনেকাংশে। সুতারং, বাংলাদেশের বিমাখাত বৈশ্বিক বা অপরাপর তুলনীয় দেশের তুলনায় অনেক ছোট। তবে বাংলাদেশের বিমাখাতের সার্বিক সুশাসন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা এই খাতকে ব্যাপক সম্ভাবনাময় করে তুলতে পারে।
আশার কথা, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিমাশিল্পের উন্নয়ন এবং এ শিল্পের গতিশীলতা আনায়নের লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যথা- বিমা আইন ১৯৩৮ পরিবর্তন করে বিমা আইন ২০১০ প্রবর্তন; বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০; ২০১১ সালে বিমাখাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিমা অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠা; জাতীয় বিমানীতি, ২০১৪ এবং বিমা করপোরেশন আইন, ২০১৯ প্রণয়ন। এছাড়া, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিমাবিধি ও প্রবিধানমালা তৈরি করা হয় এবং বিমাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় আনা হয়। সরকারের এসকল সংস্কারের ফলে বিমাশিল্পের গ্রহনযোগ্যতা এবং গুরুত্ব পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ মার্চ ২০২০ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১ল মার্চকে জাতীয়ভাবে বিমা দিবস পালনের ঘোষণা দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ১ মার্চ জাতীয় বিমা দিবস ঘোষণা বিমাশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এবং বিমাশিল্পের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উম্মোচন করেছে কেননা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিমা একটি পেশা। বঙ্গবন্ধুর বিমা পেশায় যোগদানের তারিখ ১ মার্চকে (১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আলফা ইনস্যুরেন্স-এর বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রধান হিসেবে যোগদান) ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিমাশিল্পকে এক অনন্য উচ্চতার অধিষ্ঠিত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমা চালুর ঘোষণা দেন। ইতিপূর্বে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রবাসী বিমা চালু করা হয়েছে।
এছাড়া বঙ্গবন্ধু সার্বজনীন পেনশন পলিসি চালু করা হয়েছে। দেশের সর্বস্তরের জনসাধারনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা, সর্বজনীন পেনশন বিমা, কৃষি/ফসলি বিমা প্রচলনের উদ্যোগ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। বিমাশিল্পে উদ্ভাবন এবং তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স গাইডলাইন্স, ২০২৩ জারি করা হয়েছে যার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের অন্যতম দুটি স্তম্ভ স্মার্ট সিটিজেন ও স্মার্ট সোসাইটি গঠনে ইনস্যুরটেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি জিডিপিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ঘটাতে সক্ষম হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিমাশিল্পে মোট ৮১টি বিমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে যার মধ্যে ৩৫টি জীবন বিমা কোম্পানি এবং ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানি।
বাংলাদেশের বিমাশিল্প বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- নানাবিধ কারনে বাংলাদেশের বিমাশিল্পটি এখনও অবহেলিত যার মূলে রয়েছে এদেশের মানুষের বিমাশিল্পের প্রতি অনভিজ্ঞতা, বিমা সম্পর্কে অসচেতনতা ও ইমেজ সংকট, বিমাদাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে জটিলতা ও বিলম্বতা, পলিসি তামাদি হওয়া, আস্থার সংকট, বিমাখাতে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, দক্ষ এজেন্টের অভাব, বিমাশিল্পের সাথে জড়িত পেশার মানুষের নৈতিক আচরণের অনুপস্থিতি, বিক্রয়োত্তর পরিষেবার অপর্যাপ্ততা এবং উদ্ভাবনী বিমা পণ্যের অভাব। এছাড়া, অতিরিক্ত পরিচালনা ব্যয়, অটোমেশন সমস্যা তো আছেই।
বিমাশিল্পের এই বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করতে প্রয়োজন বিমা কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সময়মতো বিমা দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করা, ই-পলিসি চালু, বিমা সেক্টরে অটোমেশনের পাশাপাশি ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা, বিমাসংক্রান্ত গবেষণা বৃদ্ধি, বিমা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং বিজনেস সামিটের আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ, দরিদ্র মানুষের জন্য পলিসি তৈরি করা, সামাজিক বিমার প্রচলণ, বিমায় নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, দায় বিমার প্রসার করা, সরকারি সম্পত্তির বাধ্যতামূলক বিমা চালু করা, ব্যাংক ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু, নতুন নতুন বিমা পলিসি ( গ্রুপ বিমা, ক্ষুদ্র স্বাস্থ্যবিমা, ক্ষুদ্রঋণ বিমা, কৃষিবিমা, প্রাণিসম্পদ বিমা ইত্যাদি), বিমা বাধ্যতামূলক করতে হবে, বিমাশিল্পে সুশাসন নিশ্চিত করা।
প্রকৃতপক্ষে, বিমাশিল্পের উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যেমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিমাখাতকে আকর্ষর্ণীয়, লাভজনক, জনবান্ধব এবং টেকসই শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের জিডিপিতে বিমাশিল্পের অবদান অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং একইসাথে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলা সম্ভবপর হবে মর্মে আমরা আশাবাদী।
লেখক : উপসচিব ও কনসালট্যান্ট, এটুআই প্রোগ্রাম