৭ মার্চের ভাষণে বাঙালির স্বাধীনতা

খন্দকার আপন হোসাইন

মতামত

আজ থেকে প্রায় সত্তর হাজার বছর আগে, হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির মধ্যে সম্মিলিত সংস্কৃতির উদ্ভব হয়। হোমো সেপিয়েন্স সংস্কৃতির

2024-03-07T12:10:16+00:00
2024-03-07T12:45:14+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
৭ মার্চের ভাষণে বাঙালির স্বাধীনতা
খন্দকার আপন হোসাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪, ১২:১০ পিএম  আপডেট: ০৭.০৩.২০২৪ ১২:৪৫ পিএম  (ভিজিট : ২৯৩)
X

আজ থেকে প্রায় সত্তর হাজার বছর আগে, হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির মধ্যে সম্মিলিত সংস্কৃতির উদ্ভব হয়। হোমো সেপিয়েন্স সংস্কৃতির সূত্রপাত থেকেই পরীলক্ষিত হয় যে মানুষ যখন দলবদ্ধ হয় তখন আপনা-আপনিই কেউ একজন সেই দলবদ্ধগোষ্ঠীর অধিপতি হয়ে যায়। সঙ্গবদ্ধ জনসমষ্টির সম্মুখে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে অধিপতির কণ্ঠনিঃসৃত দিকনির্দেশনা হল ভাষণ বা বক্তৃতা।

৪৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এথেন্সের রাজা পেরিক্লিস স্পার্টার বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। যুদ্ধে নিহত সৈন্য ও সাধারণ মানুষের স্মরণে রাষ্ট্রনায়ক পেরিক্লিসের ভাষণ উপস্থিত জনতাকে অশ্রুসিক্ত করে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে দার্শনিক সক্রেটিস সাধারণ মানুষদের ডেকে ডেকে সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতার আধুনিকায়নের জন্য নানা ধরনের প্রশ্ন করতেন ও উত্তর জানিয়ে দিতেন। ১৫৮৮ সালের ঐতিহাসিক স্প্যানিশ-বৃটেন যুদ্ধে ইংরেজদের রণকৌশল ও মনোবল দৃঢ় করেছিল রানি প্রথম এলিজাবেথের মনোমুগ্ধকর ভাষণ। ফলাফল ব্রিটেনের যুদ্ধ জয়। ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর পেনসালভেনিয়ার গেটিসবার্গে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র বিষয়ক ভাষণ আজন্ম স্মরণীয়। ১৯৪০ সালের ১৩ মে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উইনস্টন চার্চিলের শ্রুতিমধুর ভাষণ ইংল্যান্ডের রাজনীতির মোর ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট মহত্মা গান্ধীর ‘ভারত ছাড়’ ভাষণটি ছিল ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের হুঁশিয়ারি বাণী। সর্বত্র সর্বজনীন মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ১৯৪৮ সালের ৯ই ডিসেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেন এলিয়ানর রুজভেল্ট। বিক্ষ্যাত সেই ভাষণের পর জাতিসংঘ সর্বজনীন মানবাধিকার আইন অতি আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে। ১৯৬৩ সালের ২৮শে আগস্ট ওয়াশিংটনে মার্টিন লুথার কিং এর ‘I have a dream ’  ভাষণটি ছিল বর্ণষৈম্যের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ উচ্চারণ।

উপর্যুক্ত ভাষণগুলো ইতিহাসে স্মরণীয় হলেও একটি জাতির আপামর জনসাধারণকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর করতে পারেনি। অপরদিকে, একটি জাতিগোষ্ঠীর স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে এক অমর ভাষণ। ভাষণটি প্রদান করা হয় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে। আর সে অমর ভাষণের বক্তা হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির স্বপ্নপূরণের এক সঠিক ও বাস্তব নির্দেশনা। ১১০৮ শব্দের ভাষণটি ছিল প্রাণবন্ত ও অর্থবোধক। ভাষণটি বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ধারা ও স্বাধীনতার লালিত স্বপ্ন থেকে উৎসারিত হয়েছে। দশ লক্ষাধিক লোকের বিশাল জনসমাবেশে ১৮ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ রেসকোর্সের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করেছিল। বজ্রকণ্ঠে উচ্চরিত সে ভাষণ স্বাধীনতাকামী সমগ্র বাঙালি জাতিকে এক প্লাটফর্মে দাড় করিয়েছিল। অনুপ্রাণিত করেছিল একটি স্বাধীন ভূখণ্ডে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে। উদ্বুদ্ধ করেছিল দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে। উদ্দীপ্ত করেছিল তরুণ যুবকদের অস্ত্র হাতে তুলে নিতে। জাগ্রত করেছিল স্বাধীনতার চেতনা। শিহরণ জাগানো সে ভাষণ মুক্তিকামী বাঙালির লক্ষ্য অর্জনে সাহস যুগিয়েছে। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আগ্রহী করেছে। সর্বপরি পুরো বাঙ্গালি জাতিকে দীক্ষিত করেছিল মুক্ত জীবনের মন্ত্রে। ইতিহাসের সেরা রাজনৈতিক ভাষণের মধ্যে ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য ও ব্যতিক্রম। পৃথিবীর ইতিহাস বিখ্যাত অধিকাংশ ভাষণ লিখিত হলেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল অলিখিত, তাৎক্ষণিক, স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল। ভাষণটিতে কোনো বাক্য একাধিকবার উচ্চারিত হয়নি এমনকি কোনো শব্দ পর্যন্ত পুনঃউচ্চারিত হয়নি। শব্দচয়ন ও স্বতঃস্ফূর্ত বাক্য বিন্যাসে অনন্য এ ভাষণটি বাঙ্গালিকে বাংলাদেশি হতে উত্তেজক ভূমিকা পালন করেছে।

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালির অনুভূতির বাস্তব দিকগুলো তুলে ধরেছেন। স্বাধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে বঙ্গবন্ধু অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদকেও তুচ্ছ মনে করেছেন। তিনি বলেন ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। এদেশের মানুষের অধিকার চাই।’ পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের প্রতবাদস্বরূপ তিনি এসেম্বলিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে উল্লেখ করেন- ‘২৫ তারিখে এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। শহিদের রক্তের উপর দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না।’ এসেম্বলিতে বসতে পারা না পারা নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি দূর করতে ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু ৪টি শর্ত জুড়ে দেন। শর্তগুলো হল-

ক. সামরিক শাসন প্রত্যাহার
খ. গণপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর
গ. গণহত্যার তদন্ত
ঘ. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করতো, শ্রদ্ধা করতো, ভালোবাসতো। বঙ্গবন্ধুও মানুষের হৃদয়ের আকুতি অনুভব করতেন। সাধারণ জনতা ও বঙ্গবন্ধু আশা, আকাক্সক্ষা, প্রত্যাশার বৃত্তে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। অত্যন্ত সাবলীলচিত্তে উচ্চারণ করেছিল স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। ৭ মার্চের ভাষণের একটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। যুদ্ধকালীন অশান্ত পরিস্থিতিতেও পশ্চিমা শাসকবিদ্বেষী মিলিয়ন জনতার সামনে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর নাম উচ্চারণে সৌজন্য প্রকাশ পেয়েছে ৭ মার্চের ভাষণে। বঙ্গবন্ধু প্রতিপক্ষকে ‘আপনি’ সম্বোধন করেছেন এবং সরাসরি নাম ধরে না বলে ‘সাহেব’ সম্বোধন করেছেন। ভাষণের এক জায়গায় বঙ্গবন্ধু বলেছেন ‘তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা।’

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু অঙ্গীকার করেছেন- ‘এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’ বঙ্গবন্ধুর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন ৭ মার্চের ভাষণ। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বঙ্গবন্ধু ভাষণটি প্রদান করেছিলেন। ঐতিহাসিক এই ভাষণটিতে একটি শ্রুতিকটু শব্দও স্লিপ অফ টাং হয়নি।

সমগ্র বাঙ্গালি জাতিকে একতাবদ্ধ করতে ৭ মার্চের ভাষণের কোনো বিকল্প ছিল না। ভাষণটিতে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নির্দেশ ছিল ‘প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’ মহাকাব্যিক এই ভাষণের পর নিউইয়র্কের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক নিউজউইক পত্রিকার সাংবাদিক লোবেন জিঙ্কিন্স বঙ্গবন্ধুকে poet of politics হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

৭ মার্চের ভাষণের শেষ দুটি বাক্যে বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের কর্তাব্যক্তিদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভবিতব্য মুক্তিযুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেন। বঙ্গবন্ধু শেষ বাক্য দুটি মুলত পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মৌখিক ঘোষণা। দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট ১৯৭১ এর ভাষ্যমতে- Sheikh Mujib’s speech of 7th march is the basic declaration of the independence of Bangladesh. Later, the war of independence was fought in the light of the speech. রয়টার্সের ভাষ্যমতে- বিশ্ব ইতিহাসে এত পরিকল্পিত সুবিন্যস্ত ভাষণ খুঁজে পাওয়া মুশকিল যেখানে সংগ্রামের রূপরেখা ও পরিপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলির বিচারে ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এ ভাষণ প্রসঙ্গে বলেন- Speech of 7th march is a unique document. On the one hand there is motivation for liberation. On the other hand there is a post-independence action plan.

৭ মার্চের ভাষণ নিষ্পেষিত, নিঃশেষিত, নির্যাতিত, নিগৃহীত, নিপীড়িত, নীরহ, নিরস্ত্র বাঙ্গালিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। ৭ই মার্চের ভাষণের উদ্দীপ্ততাই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রধান শক্তি। কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল একটি ভাষণ নয়, এটি একটি অনন্য রণকৌশলের প্রামাণ্য দলিল।’বিশ্বের সর্বাধিকবার প্রচারিত ও শ্রবণকৃত অলিখিত এই ভাষণটি এ পর্যন্ত ১৩টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। ১৩তম হিসেবে মাহাতো নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কুড়মালি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়। এছাড়াও বিশ্বের ৪৫টি ভাষায় এ ভাষণ অনুবাদ করার উাদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ম তফসিলে ৭ মার্চের ভাষণ সংযোজন করা হয়েছে। 

৭ মার্চের ভাষণ আজ আর শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্রই নয় বরং এটি বিশ্বসম্পদে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মুক্তির সাহসী উচ্চারণের মধ্য দিয়ে সর্বকালের সেরা ভাষণের স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর UNESCO ৭ মার্চের ভাষণকে  Memory of the world register-এর অন্তর্ভুক্ত করে। ১৩০টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও ভাষণের মধ্যে ৭৮টি বিষয়কে নির্বাচিত করে যার মধ্যে ৭ মার্চের ভাষণ ৪৮তম। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জ্যাকব এফ ফিল্ড The speech the inspired history  নামক একটি বিখ্যাত ভাষণ সংকলন প্রকাশ করেছে। এ সংকলনে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ৪১টি ভাষণের মধ্যে ৭ মার্চের ভাষণটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- The struggle, This time is the struggle for independence. বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন মেন্ডেলার মতে-অভিনশ্বর ‘৭ মার্চের ভাষণই হচ্ছে স্বাধীনতার মূল দলিল।’ 

ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষে বাঙালি জাতির আবেগ ও অনুভূতিতে মিশে গেছে এ ভাষণ। হয়ে উঠেছে বিশ্বব্যাপী মুক্তিকামী মানুষের চিরন্তন অনুপ্রেরণা। যারাই শুনেছে তারাই এ ভাষণের ব্যাঞ্জনা, তাৎপর্য ও গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মূল প্রেরণাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ৭ মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ অমর, চিরন্তন ও অবিনশ্বর।
 
লেখক :  শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী
                   







Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy