‘৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের জন্য এখনও প্রাসঙ্গিক’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বর্তমান সমাজ প্রেক্ষাপটে এখনো প্রাসঙ্গিক। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, সামাজিক

2024-03-07T16:38:39+00:00
2024-03-07T16:42:39+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
‘৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের জন্য এখনও প্রাসঙ্গিক’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪, ৪:৩৮ পিএম  আপডেট: ০৭.০৩.২০২৪ ৪:৪২ পিএম  (ভিজিট : ১৮২)
X

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বর্তমান সমাজ প্রেক্ষাপটে এখনো প্রাসঙ্গিক। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয় এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পৃথিবীর মুক্তি কামে মানুষের জন্য এখনো এটি প্রাসঙ্গিক।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টায় সিরডাপ মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আয়োজনে ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ভাষণটিতে ১১০০ এর বেশি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ১৮ মিনিটের এই ভাষণের প্রতিটি লাইন বিশ্লেষণ করলে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠন সম্ভব। তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যা দেওয়া বাংলাদেশকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু জিডিপির দিক থেকে সমৃদ্ধ করেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীসহ দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বপ্ন, আশা, বঞ্চনা ও ভবিষ্যতের কথা বলে গেছেন। রেসকোর্স ময়দানে যে আলোড়ন ছিল তার চেয়ে বেড়ে আলোড়ন পড়েছিল ময়দানের বাইরে, পুরো দেশজুড়ে। বর্তমান সরকার এই ভাষণকে পাঠ্যভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। শেখ মুজিবকে ভুলিয়ে দিতে নারী শিশুসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এখনো প্রাসঙ্গিক। শুধু বাংলাদেশের জন্য না, পৃথিবীজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের জন্য এই ভাষণ এখনো প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ দর্শনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ এগোতে পারেনি। অতীতে যখনই এই দর্শনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তখনই পিছিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ নির্মূল করতে হবে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র বলেন, এই ভাষণ থেকেই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। স্বাধীনতার পরে ছিল ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’।  স্বাধীনতার পরই আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি কাজ করেছেন। জাতির পিতার নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে জিডিপিতে পাকিস্তান ও ভারতকে পেছনে ফেলেছি। বর্তমানে একটি সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে গেছে। জাতির পিতা বলেছিলেন ‘আমি পেয়েছি চোরের খনি’। তিনি এই চোরদের থেকে মানুষকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। এখনো এই চোরেরা আমাদের পেছনে টেনে ধরছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা সমাজের দুর্নীতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি চালু করেছেন।  

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ এখন কোটি মানুষের ভাষণে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছাড়া পৃথিবীর কোনো ভাষণ জাতি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়নি। এটি ছিল একমাত্র অলিখিত ভাষণ। এই ভাষণ শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাধ্যতামূলক নবম শ্রেণিতে যুক্ত করতে হবে। এসএসসি পর্যায়ে এখান থেকে প্রশ্ন রাখতে হবে। ভালোবেসে শিক্ষার্থীদের এই ভাষণ পড়তে হবে। এখন তারা শুধু মুখে মুখে এ নিয়ে আলোচনা করে। ভাষণটির তাৎপর্য সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, ভাষণে তিনি বঞ্চনা, ইতিহাস, প্রত্যাশার কথা নিয়ে আসেন। একইসঙ্গে জনমনের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণে চাতুরতা অবলম্বন করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৭১ এর সেই ভাষণ বিভিন্ন দিক থেকেই বিশ্লেষণ করা যায়। তিনি বলেছিলেন ‘ভাইয়েরে আমার’। এর মধ্য দিয়ে তিনি সব জাতি, ধর্ম ও বর্ণের লোকদের এক করেছিলেন। সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে প্রস্তুত করতে তিনি এই ডাক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি বলেছেন ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এর মধ্য দিয়ে তিনি স্বাধীনতার ও মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এই মুক্তি অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহবায়ক উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, শেখ মুজিবের সেদিনের ভাষণ জনমনে দাগ কেটেছিল। পৃথিবীর অন্যান্য শ্রেষ্ঠ ভাষণের মধ্যে এটি অন্যতম স্থান করে নিয়েছে। 

সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি শফিকুল করিম সাবু ও বঙ্গবন্ধু গবেষক মেজর হাফিজুর রহমান।






Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy