আঁচার তৈরির জন্য কাঁচা আম যাচ্ছে ঢাকায়

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

ফিচার

তীব্র খরা এবং প্রাকৃতিক কারণে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তুলনামূলক কম ফলন হয়েছে আমের। শুরুর দিকে গাছে গাছে

2024-05-22T15:11:10+00:00
2024-05-22T15:11:10+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
আঁচার তৈরির জন্য কাঁচা আম যাচ্ছে ঢাকায়
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৩:১১ পিএম   (ভিজিট : ৩০৭)
X

তীব্র খরা এবং প্রাকৃতিক কারণে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তুলনামূলক কম ফলন হয়েছে আমের। শুরুর দিকে গাছে গাছে কিছু মুকুল থাকলেও অনাবৃষ্টি ও খরাতে শেষ পর্যন্ত গুটি এসেছিল কিছু সংখ্যাক গাছে। চলতি মৌসুমে গাছে আম ধরেছে হতাশাজনক। গাছে থাকা এসব আম পাক ধরতে সময় লাগবে আরো বেশ কিছু দিন। 

তবে তার মাঝেই গাছ কাঁচা আম সংগ্রহ করছেন অনেক বাগান মালিক। গাছ থেকে সংগ্রহ করা নানা সাইজের কাঁচা আম চলে যাচ্ছে প্রাণ সহ বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানীতে। সরাসরি গ্রামা ল থেকে এসব কাঁচা আম নিয়ে যাচ্ছে বহুজাতিক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। তাদে সংগ্রহ করা এসব কাঁচা আম ব্যবহার হবে প্যাকেটজাত আমের আঁচার তৈরিতে। 

মধুমাস জৈষ্ঠ্য আসার আগের ছোট বড় ব্যবসায়ী এবং বাগান মালিকরা লাভের আশায় গাছ থেকে সংগ্রহ করছেন কাঁচা আম। এতে চলতি মৌসুমে বাজারে পাকা আমের সংকট সৃষ্টি আশংকা থাকলেও, লাভের আশায় অনেকেই কাঁচা আম বিক্রি করে দিচ্ছেন। 

শুক্রবার সকালে ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার পুরাতন বাজার ঘুরে দেখা যায়, একাধিক ফাঁকা দোকানে বিছিয়ে রাখা আছে নানা জাতের কাঁচা আম। শ্রমিকরা মেঝে থেকে সাইজ অনুযায়ী বেছে এসব কাঁচা আম বস্তা ও প্লাস্টিকের ক্যারেটে ভরাচ্ছেন। ব্যাটারী চালিত ভ্যান, ইজিবাইক, রিক্সা ও সাইকেলে অনেকে ক্যারেটে ভরিয়ে কাঁচা আম নিয়ে আসছেন এসব ছোট গুদাম ও দোকানে। কাঁচা আম নিয়ে আসা তাদের অধিকাংশজনই বাগান মালিক। আমের ওজন মেপে টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন তারা সকলে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে এসব কাঁচা আম। নিজ বাগান এবং বাড়িতে থাকা গাছ থেকে কাঁচা আম সংগ্রহ করে বাজারে পাইকারের কাছে বিক্রি করছেন মালিকরা। প্রতিদিন সকাল-সন্ধায় প্রাণ কোম্পানীর নিজস্ব গাড়ী এসে এসব কাঁচা আম নিয়ে যাচ্ছে তাদের কারখানায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব কাঁচা আম কোম্পানীকে দিচ্ছেন কমিশনের ভিত্তিতে। প্রাণ কোম্পানী প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে কাঁচা আমের। সেই নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় বাগান থেকে আম সংগ্রহ করছে ব্যবসায়ীরা। প্রাণ কোম্পানীর কাছে থেকে মণ প্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমিশন পাচ্ছে এসব ব্যবসায়ীরা। 

নিজ গাছ থেকে ৬ মণ কাঁচা আম সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করতে নিয়ে এসেছিলেন আজাহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় আমার গাছে আমের ফলন অনেক কম। সামনে শিলাবৃষ্টি হলে গাছে যে আম আছে, সেটিও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই কাঁচা আম বিক্রি করছি।’

আরেক বাগানী মুনসুর আলী। তিনি বলেন, ‘আম পাক ধরার পর বাজারদর কেমন থাকবে তার ঠিক নেই। কাঁচা আম বিক্রি করেই ভালো দাম পাচ্ছি। তাই বিক্রি করে দিচ্ছি। সামনে ঝড়বৃষ্টি হলেও কোন চিন্তা থাকবে না। ’

আম ব্যবসায়ী শাহিন মন্ডল বলেন, ‘গত ১০ দিন যাবত কাঁচা আমের ব্যবসা করছি। প্রাণ কোম্পানী সরাসরি আমাদের কাছে থেকে কাঁচা আম নিয়ে যাচ্ছে। আজ (শুক্রবার) প্লাস্টিকের ১১১টি ক্যারেটে ৫৫ মণ কাঁচা আম প্রস্তুত করে রেখেছি। সন্ধায় গাড়ী এসে এসব আম নিয়ে যাবে। আমি নিজেই প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ মণ কাঁচা আম কোম্পানীকে দিচ্ছি। এতে মণ প্রতি দু‘চার টাকা কমিশন পাচ্ছি। তাতে প্রতিদিন ভালো একটা টাকা উপার্জন হচ্ছে। আমার মত আরো অনেকেই প্রাণ কোম্পানীতে কাঁচা আম সরবরাহ করছে।’

গাছ থেকে কাঁচা আম সংগ্রহ করে বাজারে পাইকারদের গাছে বিক্রি করতে নিয়ে এসছেন একজন বাগান মালিক। সেই সব আমের সাইজ দেখছেন পাইকার। ছবিটি শুক্রবার সকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার পুরাতন বাজার থেকে তোলা।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার পুরাতন বাজারের একটি ফাঁকা দোকানে আচার তৈরির জন্য কাঁচা আম বাছাই করে প্লাস্টিকের ক্যারেটে ভরছেন দুজন ব্যবসায়ী। এসব আম চলে যাবে প্রাণ কোম্পানীর নিজস্ব কারখানায়।








Loading...
Loading...


ফিচার এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy