প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪, ৩:১৯ পিএম আপডেট: ২৪.০৭.২০২৪ ৪:১৪ পিএম (ভিজিট : ১৮৩)

X
আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের’ পরিবারদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা অপরাধীদের একে একে চিহ্নিত করবো। আমরা বাধ্য হয়েই কারফিউ চালু করেছি। আমরা আশা করি এই জঙ্গি উত্থান ও সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের কোটা আন্দোলন একটা সহিংস আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমাদের পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সব বাহিনী ধৈর্যের সাথে এ আন্দোলন মোকাবিলা করেছে। এ আন্দোলনে আমরা বর্বরতা দেখেছি। এ আন্দোলনের নামে কারা পেছন থেকে মদদ দিয়েছে তা মানুষ জানে। এটা সেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর দেশে পরিণত করার জন্য যারা ইন্ধন দিয়েছে তারা ছাত্রদের বাদ দিয়ে নিজেরাই সামনে নেমে এসেছিল।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যে দাবিগুলো করেছে তাদের সবগুলো দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি পুলিশকে টার্গেট করে তারা হামলা চালিয়েছে। পুলিশ সদস্যকে মেরে ফাঁসি দিয়ে গাছে টানিয়ে রেখেছে। বাংলা ভাই যে জঙ্গি উত্থান করেছিল জামায়াত-বিএনপিও একই কাজ করেছে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি পুলিশকে টার্গেট করে তারা হামলা চালিয়েছে। পুলিশ সদস্যকে মেরে ফাঁসি দিয়ে গাছে টানিয়ে রেখেছে। এ চিত্র আপনারা দেখেছেন। আপনারা দেখেছেন বাংলা ভাই যে জঙ্গিবাদের উত্থান করেছিল, এই জামায়াত-বিএনপিও একই কাজ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে নাশকতাকারীদের সর্বশক্তি দিয়ে চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কারফিউ তুলে দিতে সরকার কাজ করছে। আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে তাদের একের পর এক চিহ্নিত করব। তাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে। এটা থেকে আমরা এক পা-ও সরে দাঁড়াবো না।
তিনি বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে কারফিউ জারি করেছি। আমরা সেনাবাহিনীকে ডেকেছি। তারা সহযোগিতা করছে। এই জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের উত্থান, বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত ইতোমধ্যে আমরা কন্ট্রোল করে নিয়ে এসেছি। আগামী দু-চার দিনের মধ্যে আশা করি সবকিছু কন্ট্রোল করে নিয়ে আসবো। কারণ দেশের মানুষ এটা পছন্দ করছে না।
মন্ত্রী বলেন, আমরা তো কারফিউ রাখতে চাই না। থানা আক্রমণ করছে, পুলিশ মেরে ফেলছে, কেপিআইগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। সেজন্য আমরা বাধ্য হয়ে সন্ধ্যা আইন বা কারফিউ জারি করেছি।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কাজ শেষ হলে, দেশের পরিবেশ যখন ঠিক হয়ে যাবে, তারা তাদের কাজে চলে যাবে। কারফিউ প্রত্যাহার হবে এবং জনজীবন আবারো স্বাভাবিক গতিতে চলবে। আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি সেটি ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামলার মেরিট নিয়ে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার মেরিট অনুযায়ী চার্জশিট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা হচ্ছে এবং এই আক্রমণ ছিল আন্দোলনকারীর সুপরিকল্পিত। মামলা কখন হবে, কোথায় হবে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। প্রতি ঘণ্টায়ই মামলা হচ্ছে। আমরা চার্জশিট পাওয়ার পর মামলার মেরিট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।