
X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানিতে বাগেরহাট জেলার চারটি আসন বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
আজ (সোমবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।
ইসি’র খসড়া প্রস্তাবে বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটিতে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু শুনানিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় প্রতিনিধি, আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানান।
তাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন ছিল। একটি আসন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যায্য, অবাস্তব ও জনস্বার্থবিরোধী।
বাগেরহাট-৩ আসনের প্রতিনিধি এডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন ছিল। হঠাৎ করে ইসি আমাদের জানিয়েছে, চারটি আসন থাকবে না। একটি আসন বাদ দেওয়া বাগেরহাটবাসী মানে না। এটা অযৌক্তিক, আইন পরিপন্থী এবং এটি বাস্তবসম্মতও নয়।’
ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। অথচ তারা বাগেরহাটের জনগণের অধিকার খর্ব করছে। ইসি’র এ সিদ্ধান্ত জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটের পরিপন্থী।’
এডভোকেট মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘কোনো গণশুনানি না করেই আসন কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক। প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না এলে আমরা আদালতে যাব।’
আগে বাগেরহাটে চারটি আসন ছিল— বাগেরহাট-১: মোল্লারহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী, বাগেরহাট-২: সদর ও কচুয়া, বাগেরহাট-৩: রামপাল ও মোংলা, বাগেরহাট-৪: মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা।
প্রস্তাবিত নতুন বিভাজন অনুযায়ী বাগেরহাট-১ আগের মতো বহাল, বাগেরহাট-২: সদর, কচুয়া ও রামপাল এবং বাগেরহাট-৩: মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা।
আজকের শুনানিতে সকাল ১০টা থেকে সাতক্ষীরা-৩, ৪ এবং যশোর-৩, ৬ আসনের দাবি-আপত্তি শোনা হয়। দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাটের আসনগুলো নিয়ে শুনানি হয়।
দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঝালকাঠি-১, বরগুনা-১ ও ২, পিরোজপুর-১, ২, ৩, চট্টগ্রাম-৩, ৫, ৮, ১৯, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান আসনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে সড়ক অবরোধ ও হরতালে কর্মসূচি পালন করে। এতে জেলার ভেতর ও বাইরের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
উল্লেখ, ৩০ জুলাই দুপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকেই বাগেরহাট জেলাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। এরপর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ও নির্বাচন কমিশনের সামনে মানববন্ধনসহ একের পর এক আন্দোলন করে যাচ্ছে বাগেরহাটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।