
X
জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও এর ভিত্তিতে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিসহ মোট ৬ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস।
২৬ দিনের নতুন কর্মমসূচির মধ্যে রয়েছে- ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত গণসংযোগ, ১০ অক্টোবর ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে গণমিছিল এবং ১২ অক্টোবর সারাদেশে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান। এছাড়া আগামী ১৫-৩০ অক্টোবর সারাদেশে সংসদীয় আসন ভিত্তিক গণসংযোগ।
শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মীদের গাজাগামী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র নৌবহরে ইসরায়েল বাহিনীর হামলা ও কয়েক'শ মানবাধিকারকর্মীকে অপহরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
খেলাফত মজলিস তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই দ্রুত জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ ঘোষণা এবং তা কার্যকর করতে এর আইনি ভিত্তি প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে এই সনদের ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
দাবিকৃত ৬ দফা পূরণে নতুন কর্মসূচিসমূহ হলো
১. ৫-৯ অক্টোবর: গণসংযোগ
২. ১০ অক্টোবর: ঢাকা-সহ বিভাগীয় শহরে গণমিছিল
৩. ১২ অক্টোবর: সারাদেশে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান
৪. ১৫-৩০ অক্টোবর: সারাদেশে সংসদীয় আসন ভিত্তিক পক্ষকালব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি
ড. আহমদ আবদুল কাদের লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার, তা এখনো প্রস্তুত হয়নি। প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের সমাধান হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়ন নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং এই অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি।
মহাসচিব জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের জন্য দলটির প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-
ক. সনদ স্বাক্ষরের পর দুই মাসের মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে একে সাংবিধানিক ও আইনি মর্যাদা প্রদান করা।
খ. রাষ্ট্রীয় পলিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অর্ডিনেন্স বা নির্বাহী আদেশে এবং সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ঘোষণার মাধ্যমে কার্যকর করা। তবে শর্ত থাকে যে, আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সেগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন (Ratify) করতে সংসদ সদস্যগণ বাধ্য থাকবেন—এ মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য ঘোষিত শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে দেশবাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকাল ১০টায় উক্ত মিলনায়তনে খেলাফত মজলিস মনোনীত দেওয়াল ঘড়ি প্রতিকের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আমীরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, ডা. এ এ তাওসিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মাওলানা শামসুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক মাওলানা এ এস এম খুরশিদ আলম, মাওলানা শেখ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব আলম, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু সালেহীন, কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ প্রমুখ।