
X
‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে উত্তাপের মধ্যে এবার এ নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি উপদেষ্টারা ‘সেফ এক্সিট’ কিভাবে পেতে পারেন- সেই পথ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, শুধু যেনতেনভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে উপদেষ্টাদের দায়মুক্তি সম্ভব নয়। জনগণের পক্ষে গণঅভুত্থানে পাওয়া দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে উপদেষ্টারা ‘সেফ এক্সিট’ পেতে পারেন।
আখতার বলেন, ‘শুধু তাই নয়, যারা জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন, তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই। আর যেসব সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবির সদস্য জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল- তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
রংপুর নগরীর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের দীর্ঘ সময়ের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যেতে চান। সেফ এক্সিট নেওয়ার মানসিকতার সেই জায়গা থেকে পরিবর্তন যেন আসে, জনগণ তাদের যে দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করেছে, সেই দায়িত্ব পালনে যেন কোনো ধরনের ফাঁকিবাজি তৈরি না হয়- এটি আমাদের প্রত্যাশা। উপদেষ্টাদের পলায়নপর মানিসকতায় সেফ এক্সিট নিয়ে তারা শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর করে বেঁচে যাবেন- বিষয়টি এমন নয়।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোনো রাজনৈতিক জোট হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি নিবন্ধন পাওয়ার সব ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো দলের সঙ্গে জোট করার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আমরা মনে করি- জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি কারো সঙ্গে জোটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তাহলে আদর্শিক জায়গা থেকে প্রয়োজন বিবেচনায় সেই ধরনের জোটের জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকার তাদের তরফ থেকে আশ্বস্ত করেছে। আগামীতে গণভোটের মাধ্যমে সংসদকে একটি ক্ষমতা দিয়ে সেগুলো টেকসইভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা সরকার ও ঐকমত্য কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের অর্জনকে ধারণ করতে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এনসিপি অংশ নেবে। সরকার যেন জুলাই ঘোষণাপত্রের মতো বিতর্কিত একপেশি আচরণ কিংবা কোনো একটি দলের হয়ে কথা না বলে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে যে জায়গাগুলো সুনির্দিষ্ট হয়নি, সেই জায়গায় সরকার যেন কোনো দলের দ্বারা নির্ধারিত না হয়ে জনগণের প্রত্যাশার জায়গায় সত্যিকারের আইনি ভিত্তি দিতে কাজ করে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যদি মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করা না যায়, বিচার ও সংস্কার দৃশ্যমান করা না হয়, তাহলে নির্বাচনের মহোৎসব অর্জন করা সম্ভব হবে না। নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি ফ্যাসিবাদবিরোধী সব দলের কাছে ও জনগণের কাছে যেন গ্রহণযোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করতে হবে।