প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:২২ পিএম (ভিজিট : ১৫৪)

X
উপদেষ্টাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ গত এক বছর আগে একটি দানবীয় সরকারকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুছের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠন করা হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন ভালো মানুষ। তিনি ছয়টি সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে দেশের নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুণরুদ্ধারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে একটি মহল ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিএনপিকে সংস্কার বিরোধী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশ এখন নির্বাচনের রাস্তায় উঠে গেছে, তা এখন চালিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। দলের সাবেক নেতা আ.স.ম হান্নান শাহ’র নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরের কাপাসিয়া পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির সাথে বিএনপির কোনো বিরোধ নেই। বরং বিএনপিই এসব সংসস্কারের ধারক বাহক। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় সরকারের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছেন। স্বাধীন গণমাধ্যম চালু করেছেন, এ দেশের নারীদেরকে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ চালু করা এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার বিষয়টি সংযোজন করেছেন। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবৈতনিক নারী শিক্ষা চালু করেছেন। সর্বশেষ দেশ নায়ক তারেক জিয়া ঘোষিত ৩১ দফার সাথে বর্তমান সরকার ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির কোনো বিরোধ নেই। অথচ একটি মহল বিএনপিকে সংস্কার বিরোধী হিসেবে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারত আমাদের সাথে সব সময় শত্রুতা করে আসছে। ভারতের সীমান্ত রক্ষীরা নির্বিচারে গুলি করে আমাদের দেশের মানুষকে হত্যা করে যা পৃথিবীর সভ্য কোনো দেশ করে না। তারা ফারাক্কার পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদের দেশের মানুষের জানমালের ক্ষতি করে। তাই তাদের সাথে আমরা এমন বন্ধুত্ব চাই, যেখানে কোনো অবিচার থাকবে না এবং সম্পর্কটা হবে সমানে সমান।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ.স,ম হান্নান শাহকে তিনি বিশেষভাবে শ্রদ্ধা করেন। কারণ তিনি ছিলেন একজন অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক নির্ভিক সাহসী সৈনিক। তিনি বীরের বেশে দেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিন সরকারের আমলে একটি কুচক্রি মহল যখন দলের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তখন তিনি দলের পক্ষে ও দেশনেত্রীর পক্ষে নির্ভিকচিত্তে সাহসী বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি স্বার্থকে কখনো বড় করে না দেখে দলের ও দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন। তাই তার ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নানকে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে কাপাসিয়া বাসীর হাতে তুলে দিয়ে তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।