
X
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ধর্মের নামে চেতনার ব্যবসা করছে জামায়াতে ইসলামী। তারা অতীতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিল। আর এখন তাদের পাকনা গজিয়েছ। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তারা। তাদের এ ধরনের ভণ্ডামি বন্ধ করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে আবু সাইদ কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতারা খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। তবে এর আড়ালে কী আছে সেটা তো আল্লাহ জানে। রাজনীতি করতে চাইলে সোজা পথে হাঁটতে হবে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী ক্যান্টনমেন্ট বৈঠকে দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ডের মাথায় আওয়ামী বুদ্ধিপনা মাথায় চড়ে বসে। তখন বিএনপি ও জামায়াত ক্যান্টনমেন্টে ছিল। জামায়াতের অন্তরে আওয়ামী প্রেম জেগে ওঠে। তাই তারা বিপ্লবী সরকার গঠন করতে দেয়নি। অথচ একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করতে পারলে বর্তমানে দেশের এ পরিস্থিতি হতো না।
তিনি অভিযোগ করেন, তিনি অভিযোগ করেন, লন্ডন থেকে এনসিপিকে নানা ভয় দেখানো হয়েছে। আমরা তো বাস্তবেই কাউকে ভয় পাই না, তারা আবার অনলাইনে ভয় দেখায়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যবসা করেছিল। এখন একটি দল নতুন করে চেতনার ব্যবসা হাজির করছে আমাদের সামনে। বাংলাদেশে চেতনার রাজনীতি আর চলবে না।
জামায়াতে ইসলামীকে ‘ভণ্ডামি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যদি রাজনীতি করতে চান, সোজা পথে আসুন। তাদের মিষ্টি মিষ্টি কথার আড়ালে কী আছে, সেটা তো আল্লাহ জানে।...পাকিস্তানেও এ ধরনের জামায়াতে ইসলামীর একটি পাখা গজায়ছিল। একটি আসনও তারা পায়নি।’
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের আমলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদের ব্যর্থতার কারণেই এক এগারোর একটি সরকার বাংলাদেশে এসেছিল। সেই সরকারের মধ্য দিয়ে বিগত ১৫ বছর বাংলাদেশে এমন কোনও তরুণ ছিল না, যাদের ওপর জেল-জুলুম নির্যাতন নেমে আসেনি। গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার এই দীর্ঘ শাসনের জন্যও বিএনপি অনেকাংশে দায়ী। কারণ তখন প্রতিটি সেক্টরেই দুর্নীতি ছিল। বিএনপির মতো জামায়াতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। আর এখন নতুন করে প্ল্যাটফর্ম লাগিয়েছেন তুমি ইসলাম নিয়ে অর্ধেক, আর আমি অর্ধেক। আগে হলো এক প্লেটে বসে খেতো, এখন প্লেট ভাগ হয়েছে, কিন্তু এক পাতিলের তরকারি।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মের কার্ড খেলার রাজনীতি চলবে না। সংস্কার আর অধিকার আদায়ের রাজনীতি চলবে। কোনও দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের ঠাঁই হবে না। এনসিপির তরুণদের হাত ধরে ব্যালট বিপ্লব হবে।