প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৪০ পিএম (ভিজিট : ৬৫)

X
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলার পর তার মৃত্যুর সংবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ। গতকাল সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর পৌঁছালে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আজ শুক্রবার সকালেও রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ এলাকাটি এখন ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রকম্পিত। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে জড়ো হচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে জাতীয় পতাকা এবং মুখে ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র হুঙ্কার।
“হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না!”
“ফ্যাসিবাদের কালো হাত, গুঁড়িয়ে দাও এই মুহূর্ত!”
“আমরা সবাই হাদি হবো, রাজপথ ছাড়বো না!”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান বলেন, "হাদি ভাই একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ছিলেন। তাকে হারিয়ে আমরা অভিভাবকহীন বোধ করছি। এই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম থামবে না।"
একই সুরে কথা বললেন রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ওসমান হাদির মৃত্যু পুরো জাতিকে জাগিয়ে দিয়েছে। আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজপথে থাকবো।"
ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া হাউসে হামলা চালায়, যার ফলে আজ শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং এই ত্যাগী নেতার সম্মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামীকাল শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা যান তিনি।