এনসিপি কি সত্যিই জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাচ্ছে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সংস্কার বাস্তবায়নের স্বার্থে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার জজকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা দুটি মামলায় জামিন পান এনসিপির এই শীর্ষ নেতা।
আখতার হোসেন বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের আন্দোলনে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।”
জামিন পাওয়ার পর তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মামলাগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মামলা মোদি বিরোধী আন্দোলনের ঘটনায়, আরেকটি আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছর পার হলেও এসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ।”
এদিকে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জোটসংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট করতে আট দলীয় জোট জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। রোববার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আরও তিনটি দল যুক্ত হতে যাচ্ছে। দলগুলো হলো—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), এবি পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একাধিক দফা আলোচনা হলেও আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য হয়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সরাসরি আলোচনার চেষ্টা থাকলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।
এরপর বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে মধ্যপন্থী একটি আলাদা রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় এনসিপি। সেই উদ্যোগে গণতন্ত্র মঞ্চকে যুক্ত করার চেষ্টা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এনসিপি, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠিত হয়। গত ৭ ডিসেম্বর এই ত্রিদলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
তবে নির্বাচনী রাজনীতির বাস্তবতা বিবেচনায় এনে এনসিপি বড় দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে যাওয়ার পর সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়।
এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই দলটির ভেতরে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত শনিবার সন্ধ্যায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য তাসনিম জারা দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার জামায়াতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত নেতা মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন।
এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে সম্ভাব্য জোট বিষয়ে ‘নীতিগত আপত্তি’ জানিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।