নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচন করার পথে বাধা কেটে গেছে। এর আগে হাই কোর্টে ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার আবেদন খারিজ হওয়ায় তার ভোটাধিকার স্থগিত ছিল। পরে মান্না আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে পুনরায় আবেদন করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং সিআইবির ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে মান্নার নামও স্থগিত করা হয়।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে মান্নার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। শুনানিতে মান্নার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও মামুন মাহবুব। ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী এম. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মান্নার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটি রেগুলারাইজড অবস্থায় রয়েছে। ফলে তিনি আর খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালে মান্নার প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নিয়মিত মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ না করায় বকেয়া বেড়ে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখা বকেয়া আদায়ে নোটিস পাঠায়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারধারীদের মধ্যে মান্নার ৫০ শতাংশ অংশ রয়েছে, বাকিটা প্রাপ্তবয়স্ক অংশীদার ও পরিবার সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা।
মান্নার পক্ষে আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় তিনি এবার নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এই রায় মানে মান্নার ভোটের পথ মসৃণ হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে।