
X
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) গত সাড়ে তিন মাস ধরে ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট এক ছাতার নিচে আনতে কাজ করছে। তবে, নির্বাচনের ঠিক আগে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দু’দল মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে, এই সমঝোতা টিকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, জামায়াত ১৮০ থেকে ১৮৫টি আসন চাইছে, বাকি আসনগুলো জোটের শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এই হিসাব অনুযায়ী, জামায়াতের পর সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার কথা ইসলামী আন্দোলনের, এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয়। দলটির দাবি, তাদের আরও বেশি আসন পাওয়া উচিত, বিশেষ করে সদ্য গঠিত এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্তে তারা ক্ষুব্ধ।
তাদের মতে, এনসিপিকে অযথা অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবস্থানও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে মিলে গেছে।
নতুন শরিকদের অন্তর্ভুক্তি:
শুরুতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ মোট আটটি দল আসন ভাগাভাগির আলোচনায় ছিল। তবে, মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখের একদিন আগে, ২৮ ডিসেম্বর, এনসিপি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জোটে যোগ দেয়। ওই রাতেই আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যোগ দেওয়ার খবর আসে। ফলে, জোটের শরিক দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১টি।
ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা জানান, এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তাদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। তাদের অভিযোগ, জামায়াতের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণই বর্তমান অসন্তোষের মূল কারণ।
সিনিয়র নেতাদের মতামত:
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, ১১ দল নিয়ে আসন ভাগাভাগি ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানযোগ্য। তিনি বলেন, “জোট গঠনের জন্য আন্তরিকতা দরকার। পারস্পরিক সম্মান ও সদিচ্ছা থাকতে হবে। যদি সবাই সত্যিই ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে চায়, তবে এটি কোনো সমস্যাই নয়।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদও একই মত পোষণ করে বলেন, “আমরা একটি জোট। জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। জোট অটুট রাখতে প্রয়োজনে ছাড় দিতে আমরা প্রস্তুত।”
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "এখানে কোনো সংকট নেই। বিভিন্ন দল ভিন্ন ভিন্ন সময়ে জোটে যোগ দেওয়ায় প্রক্রিয়াটি একটু সময় নিচ্ছে।"
প্রতিশ্রুত আসন:
২৮ ডিসেম্বর ১১ শরিক দলের মধ্যে সর্বশেষ দফার আলোচনা হয়। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, এনসিপি ও এলডিপি একযোগে আন্দোলনের অংশ হিসেবে জোটে যোগ দিয়েছে। এরপর এবি পার্টির যোগ দেওয়ার খবর আসে।
সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, সর্বশেষ প্রস্তাবে জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১১টি, খেলাফত মজলিসকে ৩টি, এবি পার্টিকে ৩টি, এলডিপিকে ২টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মনোনয়ন পরিসংখ্যান:
২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে জামায়াত ২৭৬টি, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি, এনসিপি ৪৪টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি এবং খেলাফত মজলিস ৬৮টি আসনে মনোনয়ন জমা দেয়।
তবে, যে আসনগুলো ইসলামী আন্দোলনের জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেখানেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একইভাবে, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জামায়াতের জন্য নির্ধারিত আসনগুলোতে মনোনয়ন দিয়েছেন।
চূড়ান্ত সমঝোতার অগ্রগতি:
দলীয় সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন প্রথমে ১৫০টি আসন দাবি করেছিল, পরে তা কমিয়ে ১২০-এ আনা হয়। বর্তমানে দলটি ৭০টির বেশি আসন চাইছে এবং মাত্র ৪০টি আসনে রাজি নয়।
জামায়াতের আহসানুল মাহবুব জুবায়ের আশা প্রকাশ করেন, “আমরা আশা করছি, এই সপ্তাহের মধ্যেই সমঝোতা চূড়ান্ত করে ঘোষণা দিতে পারব।”
ফয়জুল করিম বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এখনো জোট ভাঙেনি। কেউ বহিষ্কৃত হয়নি, কেউ বেরিয়েও যায়নি। আমরা সবাইকে নিয়ে এগোতে চাই। তবে, যদি কেউ মনে করে একাই ক্ষমতায় যাবে, তবে সামনে এগোনো সম্ভব হবে না।”