আয়নাঘরের মত গুম-খুনের জায়গাগুলোও ম্যাপিং করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার নিকট 'গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন'-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা শেষে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এছাড়া এতদিন ধরে নিরলস পরিশ্রম করার জন্য গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এ সময় কমিশনের সদস্যগণ সহ উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এই প্রতিবেদন দেখায় কীভাবে গণতন্ত্রের মোড়কে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নৃশংসতা চালানো হয়েছে।”
তিনি প্রতিবেদনের তথ্য সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সুপারিশমালা ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপন এবং আয়নাঘরসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের স্থানগুলো ম্যাপিংয়ের নির্দেশ দেন।
কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এক বছর তিন মাস ধরে কাজ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং সরকার সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত ১৫ বছরের আওয়ামী সরকারের আমলে জোরপুর্বক গুমের শিকার হয়েছেন অন্তত চার থেকে ছয় হাজার মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই গুমের সরারসি নির্দেশদাতা ছিলেন ক্ষমত্যাচুত শেখ হাসিনা। গুম কমিশনের প্রতিবেদনকে ঐতিহাসিক কাজ আখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, কতটা বীভৎস হতে পারে- এ প্রতিবেদন তারই নথি।