
আগামী নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলেন, "আগামীর নির্বাচনে পাতানো হবে কি না, এ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।"
নায়েবে আমির জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা মূলত আগামী নির্বাচন, পর্যবেক্ষক পাঠানো, বাংলাদেশ-ইইউ অ্যাগ্রিমেন্ট এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ছিল। তিনি বলেন, “আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের বলেছি যে, বাংলাদেশে একটি ফেয়ার ও ক্রেডিবল নির্বাচন খুবই জরুরি। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাব।”
আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্রাইসিসের মূল কারণ হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া। যদি আগামী নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল এবং গভীরতর হবে।” তিনি আরো বলেন, সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে এক বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে, তাতে এ আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, আগামীর নির্বাচনও অতীতের মতো পাতানো হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, “এই ধরনের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হবে এবং দেশের ভবিষ্যতকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই, তারা যেন এখনো নিরপেক্ষ থাকে এবং দেশের কল্যাণে ভূমিকা পালন করে।”
এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানায় যে, তারা আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “আমরা এটাকে ওয়েলকাম করি।”
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “ইইউ প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমরা বলেছি, যদি আমাদের দল ক্ষমতায় আসে, আমরা সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটানোর জন্য ভূমিকা নেব। ইউরোপীয় ইউনিয়নও সক্রিয়ভাবে এই ইস্যুতে কাজ করতে চায়।”
এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নায়েবে আমির আশ্বস্ত করেছেন যে, দলটি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা করবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।