‘শ্যামপুর-কদমতলী থানা এলাকা নিরাপদ করতে চাই’

নজরুল ইসলাম

রাজনীতি

দীর্ঘদিন ধরে নানান অবহেলা ও সংকটে জর্জরিত ঢাকা মেট্রোপলিটনের শ্যামপুর ও কদমতলী থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসন। আসন্ন

2026-01-11T20:33:33+00:00
2026-01-11T20:33:33+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
বিশেষ সাক্ষাৎকার
‘শ্যামপুর-কদমতলী থানা এলাকা নিরাপদ করতে চাই’
নজরুল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ২১২)
X

দীর্ঘদিন ধরে নানান অবহেলা ও সংকটে জর্জরিত ঢাকা মেট্রোপলিটনের শ্যামপুর ও কদমতলী থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসন। আসন্ন নির্বাচনে এ আসন থেকে লড়ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। এলাকার বাস্তব চিত্র, মানুষের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বাংলাদেশ বুলেটিনের সঙ্গে...

বাংলাদেশ বুলেটিন: এলাকার মানুষের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?

তানভীর আহমেদ রবিন: আমি এই এলাকারই সন্তান। বিগত ১৮ বছর ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমি মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। অনেকে এলাকায় না থাকলেও আমি বা আমার বাবা এলাকা ছেড়ে যাইনি, আমাদের গুলশান-বনানীতে বাড়ি থাকলেও আমরা কোনোদিন সেখানে থাকিনি, শ্যামপুরে নিজেদের পৈতৃক ভিটায় মানুষের মাঝে কাটিয়েছি।

বাংলাদেশ বুলেটিন: এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আপনার অঙ্গীকার কী?

তানভীর আহমেদ: বর্তমানে ‘চাঁদাবাজি’ শব্দটি একটি রাজনৈতিক অলংকারে (রেটরিক) পরিণত হয়েছে, যা জামায়াত বা এনসিপির মতো দলগুলো বেশি ব্যবহার করছে। তবে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অন্যায় করলে দল তা প্রকাশ্যে স্বীকার করে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়, যা অন্য দলগুলো করে না। আমি রাজনৈতিক নেতাদের একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে চাই।

বাংলাদেশ বুলেটিন: নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে এলাকা পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনি কী পদক্ষেপ নিতে চান?

তানভীর আহমেদ: আমি এমন একটি মহল্লাভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা গড়তে চাই যেখানে এলাকার মুরুব্বি, আলেম, শিক্ষার্থী, নারী এবং মেহনতি মানুষ একত্রিত হয়ে সমস্যা চিহ্নিত করবেন। আমার পরিকল্পনা হলো, এলাকার বিজ্ঞ ব্যক্তিরা মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আমরা রাজনীতিবিদরা তা বাস্তবায়ন করব। এর মাধ্যমে ক্ষমতা রাজনৈতিক নেতার হাত থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে চলে যাবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি ‘গণতান্ত্রিক বাগানের’ সাথে তুলনা করা যেতে পারে; যেখানে সাধারণ মানুষ হলো মালি যারা ঠিক করবেন কোন গাছ কোথায় লাগানো হবে, আর রাজনীতিবিদরা হলেন শ্রমিক যারা সেই নির্দেশ অনুযায়ী বাগানটিকে সাজিয়ে তুলবেন।

বাংলাদেশ বুলেটিন: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা দেখছেন কি?

তানভীর আহমেদ: আমি কোনো শঙ্কা দেখি না। তবে যারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছিল এবং এখনো করছে, তারা আবারও একই চেষ্টা করতে পারে। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। অগণিত নেতাকর্মী খুনের শিকার হয়েছে, গুম হয়েছে, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী মামলা-হামলার শিকার হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। আমাদের মূল লক্ষ্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন- যেখানে মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই সরকার মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবে এবং সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। 

বাংলাদেশ বুলেটিন: আপনার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা কী? এবারের মাঠের পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

তানভীর আহমেদ: ২০০৮, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২০ সালের উপনির্বাচনে আমি আমার বাবার নির্বাচনে এজেন্ট ছিলাম। ফলে নির্বাচনী অভিজ্ঞতা আমার আছে। ওই নির্বাচনগুলো ছিল মূলত ‘বোগাস’ নির্বাচন সেখানে মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়নি। বর্তমানে আমরা মাঠে যাচ্ছি, মানুষের কাছে যাচ্ছি, এবং স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখতে পাচ্ছি। মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উদ্গ্রীব। তারা ভোট দিতে চায় এবং নিজেদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে চায়। 

বাংলাদেশ বুলেটিন: এলাকার অন্যতম সমস্যা মাদক ও কিশোর গ্যাং। এদের প্রতিহতে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?

তানভীর আহমেদ: মাদক একটি বড় সমস্যা। মাদক ব্যবসায়ীরা সাধারণত প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই এলাকায় টিকে থাকে। আমি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এলাকাবাসীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে কয়েকজন বড় মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিরা পলাতক। আমার নীতি হবে জিরো টলারেন্স মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং, দু’টির বিরুদ্ধেই। এখানে খেলার মাঠ বা বিনোদনের জায়গা নেই। ফলে তারা রাস্তায় আড্ডা দেয় এবং সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আমার পরিকল্পনা হলো প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে একটি করে পাঠাগার নির্মাণ করা। এই পাঠাগার হবে একটি মননশীল পরিবেশ, যেখানে নবীন-প্রবীণের মিলন হবে, নারীরা অংশ নিতে পারবেন, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ থাকবে। এতে প্রজন্মের মধ্যে দূরত্ব কমবে, সামাজিক বন্ধন তৈরি হবে এবং তরুণরা মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে সরে পড়ালেখা ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগী হবে।

বাংলাদেশ বুলেটিন: জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণ কী এবং সমাধান কীভাবে সম্ভব?

তানভীর আহমেদ: জলাবদ্ধতা আমাদের এলাকার যুগের পর যুগের অভিশাপ। এটি মূলত নিচু এলাকা হওয়ায় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে হয়েছে। ডিএনডি বাঁধের ভেতরে এলাকাটি পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেনি, ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খালগুলো দখল হয়ে গেছে, পরিষ্কার রাখা হয়নি। পানি নিষ্কাশনের পথ বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা, কিন্তু দুই পাশের ড্রেনেজ সমন্বিত না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

আমি মনে করি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে। 

বাংলাদেশ বুলেটিন: তারেক রহমানের নেতৃত্ব কীভাবে দেখছেন?

তানভীর আহমেদ: তারেক রহমান আমাদের কাছে একটি আবেগ; তিনি আমাদের আপনের চেয়েও আপন। তার নির্দেশনায় এবং সাহসেই আমরা দীর্ঘদিনের কঠিন লড়াইয়ে টিকে আছি। তিনি দেশে ফেরায় আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত উজ্জীবিত এবং সুশৃঙ্খল হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়ার মতো তিনিও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।

বাংলাদেশ বুলেটিন: শেষ প্রশ্ন, ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?

তানভীর আহমেদ রবিন: আমি এই এলাকার সন্তান। আমার পূর্বপুরুষরা এখানকারই মানুষ। আমার বাবা বারবার এই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনিও প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন থেকেই এই গ্রাম অঞ্চলকে শহরে রূপান্তরের যাত্রা শুরু হয়। আমি চাই, এলাকাকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে। ভোটারদের বলতে চাই, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন।





Loading...
Loading...


রাজনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy