
X
ফাইবার কি নতুন প্রোটিন? সুস্থতার নতুন ট্রেন্ড নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা গত বছর ফিটনেস দুনিয়ায় প্রোটিন নিয়ে মাতামাতি থাকলেও, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ফাইবার’ বা আঁশযুক্ত খাবার। তবে এই জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের খুব কম সংখ্যক মানুষই প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফাইবার গ্রহণ করেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রোটিনকে সরাসরি পেশি গঠনের সাথে তুলনা করা হলেও ফাইবারকে দীর্ঘদিন কেবল হজমের সহায়ক হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দীর্ঘায়ু এবং মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রে ফাইবারের ভূমিকা অপরিসীম।
ফাইবার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সাধারণ হজম প্রক্রিয়ার বাইরেও ফাইবারের নানাবিধ স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে:
হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ: উচ্চমাত্রায় ফাইবার গ্রহণ হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
মানসিক স্বাস্থ্য ও অন্ত্রের সংযোগ: ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার (প্রিবায়োটিক) জোগান দেয়, যা উদ্বেগ কমিয়ে মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ: ওটস বা বীজে থাকা ফাইবার রক্তে চিনির শোষণ ধীর করে দেয়, ফলে শরীরে হঠাৎ শক্তির অভাব বা ‘এনার্জি ক্র্যাশ’ হয় না।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও প্রভাব
২৪ বছর বয়সী ইয়েশে স্যান্ডার জানান, প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়ায় তার মানসিক স্বাস্থ্যের আমূল পরিবর্তন এসেছে। একইভাবে, ভিকি ওয়েন্স নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী দেখেছেন যে, নিয়মিত হোল-গ্রেইন বা লাল আটার খাবার গ্রহণ করায় তার দীর্ঘদিনের অলসতা ও ত্বকের সমস্যা দূর হয়েছে।
প্রতিদিন ৩০ গ্রাম ফাইবার নিশ্চিত করার উপায়
বিশেষজ্ঞরা দিনে অন্তত ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। তবে হঠাৎ করে মাত্রা না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস করা উচিত। নিচের সহজ পরিবর্তনগুলো ট্রাই করতে পারেন:
শস্য: সাদা চাল বা রুটির বদলে লাল চাল বা লাল আটার রুটি বেছে নিন।
স্ন্যাকস: চিপস বা চকোলেটের পরিবর্তে বাদাম, পপকর্ন বা কিউই ফল খান।
বুস্টার: তরকারিতে মটরশুঁটি বা বিন যোগ করুন এবং দইয়ের সাথে চিয়া সিড মিশিয়ে নিন।