প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম (ভিজিট : ১২৭)

X
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা হতে হবে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র। বেহুলার বাসরঘরের মতো যেন কোনো ছিদ্র না থাকে।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উদ্যোগে তারেক রহমানের নির্দেশনায় ও ড. জুবাইদা রহমানের পরামর্শে লালমাটিয়ায় ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।
রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়েও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আমরাও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা বারবার বলেছি— চেয়ারম্যানের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে আমরা সেই মাত্রার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, গতকাল গুরুতর আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় একজন মায়ের আকুতি ও বুকভাঙা কান্না দেখে চেয়ারম্যান গভীরভাবে বিচলিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্টেজেই আমাকে এবং আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন—আজই ঢাকায় তিনি যে বাসায় অবস্থান করছেন, সেখানে গিয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের সমস্যাগুলো বিস্তারিত জানার জন্য।
রিজভী আরও বলেন, আজ আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে এসেছি এবং আমাদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতাও নিয়ে এসেছি। আমরা শহীদ ফিরোজের পরিবারের কাছে এসেছি। শহীদ ফিরোজ রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা। ৫ আগস্ট পলাতক ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সময়ও নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে করতে গেছে—শহীদ ফিরোজ তারই আরেকটি নির্মম নিদর্শন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আজ আপনাদের সামনে এটুকু বলতে চাই—আমরা আশা করছি, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তবে কিছু দৃষ্টান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মাঝে মাঝে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে—নিরপেক্ষতার জায়গায় কোনো চির ধরছে কি না।
এ সময় ইংরেজি কবি ও সাহিত্যিক শেক্সপিয়ারের একটি উক্তি উপমা হিসেবে ব্যবহার করে বলেন, ‘Something is rotten in the state of Denmark’—এই ধরনের কোনো পচনের গন্ধ আমরা অনুভব করছি। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থায় চিড় ধরবে। আমি এখনো বলতে চাই—নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করবে, যেন প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে, বিনা সংশয়ে ও নির্ভীকভাবে ভোট দিতে পারেন। কোনো ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপির সুযোগ যেন না থাকে—এটি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব।’