প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম (ভিজিট : ১৪৬)

X
শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির ২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন-মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মো. আতাউর রহমান আতা এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মো. আতাউর রহমান আতা এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহ-৪ আসন (কালীগঞ্জ উপজেলা ও ঝিনাইদহ সদরের চার ইউনিয়ন) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।
মনোনয়নবঞ্চিত ফিরোজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য কাজ করেছি। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে, যিনি বিএনপির কেউ না। তিনি অন্য এলাকার, সাধারণ মানুষও তার সঙ্গে নেই। নেতাকর্মী-সমর্থকদের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।’
নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সাবেক এই ছাত্রনেতা আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে কালীগঞ্জে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে ছিলাম এবং এখনো আছি। কারণ তারাই আমার ভরসা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই আমাকে স্বতন্ত্র নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবেন।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা বলেন, ‘আমি বিগত ১৬ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের দলের কোনো কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি। তারা ওই সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে সুবিধা ভোগ করেছেন। এসি রুমে আরামে ঘুমিয়েছেন। আমি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। দল একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি সেটি মেনে নিতে পারিনি।’