
X
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২২ বছর পর সিলেট সফরে যাচ্ছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন।
এর আগে সর্বশেষ তিনি সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে অংশ নিতে সিলেটে এসেছিলেন, তখন তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ঐতিহ্যগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সিলেট থেকেই প্রচার কার্যক্রম শুরু করতেন। সেই ধারাবাহিকতা এবার বজায় রাখছেন তারেক রহমান।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ওই দিন সিলেট হয়ে ঢাকায় গেলেও দলীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। প্রায় ২২ বছর পর এবার সরাসরি সিলেটবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে তাঁর।
সফরসূচি ও কর্মসূচি
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছে রাতেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যাবেন।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এই জনসভা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে।
জনসভা শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পৃথক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জেও পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সিলেটে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদিও এটি বিভাগীয় সমাবেশ নয়, তবু সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, জনসমাগম সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে মাঠে নামানো হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জনসভাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নজরদারি থাকবে।