
X
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের জন্য মোট ২০ দিন প্রচারণার সময় নির্ধারণ করেছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসির আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার, মিথ্যা তথ্য কিংবা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন ও রেক্সিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনি জনসভা ও সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা না থাকলেও অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সভার দিন, তারিখ ও সময় লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না। সড়ক, মহাসড়ক কিংবা জনপথে সভা বা পথসভা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
প্রার্থী পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট এবং প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি হতে পারবে না। ব্যানার হতে হবে সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের আকার এ-ফোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং ফেস্টুনের সর্বোচ্চ মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।
সব ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো। এতে প্রার্থীর প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। ছবি হতে হবে কেবল পোর্ট্রেট আকারে এবং সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা প্রচারসামগ্রীতে শুধু দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ মিটারের বেশি হতে পারবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। প্রচার শুরুর আগে প্রার্থী বা দলকে সংশ্লিষ্ট পেজ, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ঘৃণাত্মক, মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা যাবে না। নারী, সংখ্যালঘু কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গুজব ও এআই অপব্যবহার রোধে নতুন ধারা যুক্ত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনি প্রচারে বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেলসহ যেকোনো যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, শোডাউন বা মশাল মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না।
ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। দলগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।