১৮ বছর পর সমগ্র জাতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশায় আছে: রবিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনেরবিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, বিগত ১৮

2026-01-27T15:33:30+00:00
2026-01-27T15:33:30+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
১৮ বছর পর সমগ্র জাতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশায় আছে: রবিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ৭৭)
X

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, বিগত ১৮ বছরে শুধু এই এলাকা নয়, সমগ্র দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানে। মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ১৮ বছর পর সমগ্র জাতি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশায় আছে।

তিনি বলেন, সমগ্র দেশের মানুষ অপেক্ষায় আছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে। তাদের সেই আশা পূরণ করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে পাঠালে আমি শুধু আপনাদের কথাই সেখানে বলবো।

২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর নির্বাচনী আসন ঢাকা-৪ এর শ্যামপুর থানাধীন ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সামনে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের রাতের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই এলাকা লুটেপুটে খেয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়নি, কারণ তারা সবসময় লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। এলাকার মুরুব্বীরা ফজরের নামাজের সময় ছিনতাইয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। এর প্রধান কারণ ছিল বহিরাগত সন্ত্রাসী ও গুন্ডা-পান্ডা এনে এলাকা শাসন করা। আমাদের এলাকার মুরুব্বিদের যোগ্য সম্মান তারা কখনো দেয়নি। জোরপূর্বক গুটিকয়েক ক্ষমতাসীনদের নেওয়া সিদ্ধান্তে চলে আসছিল এলাকার সকল মানুষ। কখনো প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। কারণ যখনই কেউ কথা বলতে গেছে, তখন তাকে অপমানিত করা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে জেল-জুলুম করে মুখ বন্ধ করা হয়েছে। এখন দিন বদলেছে। গুন্ডা-পান্ডার রাজনীতি আর চলবে না। কারো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ। এই কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

এলাকার ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারতো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা নেওয়া হয়েছে। যদি তারা তা দিতে অস্বীকার করেছে বা অপারগ হয়েছে, তখনই বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এই চাঁদাবাজির ট্রেন্ড পরিবর্তন করতে হবে। এখানে কোনো চাঁদাবাজের স্থান থাকবে না। এই ঢাকা-৪ এ কেউ কখনো চাঁদাবাজি বা মাস্তানি করলে তাকে সবার আগে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েও আমাদের এলাকার মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। আমাদের এলাকায় লোকজনের বিভিন্ন উৎসব পালন করার জন্য কোনো কমিউনিটি সেন্টার নেই, বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ নেই। পর্যাপ্ত খেলার আয়োজন না থাকায় ছেলেরা মাদকাসক্ত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ থেকে ফিরে তারা খেলার সুযোগ না পেয়ে মোবাইল আসক্ত হচ্ছে অথবা নেশার জগতে প্রবেশ করছে। একটা সময় টাকা-পয়সার সংকটে পড়ে তারা যুক্ত হচ্ছে ‘কিশোর গ্যাং’ নামক জঘন্য জগতে।

রবিন বলেন, আমাদের এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে এলাকার মানুষের জন্য কোনো কাজই করা হয়নি। ৫ আগস্টের পরে আমি সহ আপনাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে, তারা যে পদক্ষেপ নিলে জলাবদ্ধতা হবে না, তাই করবে।

এ ছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের তীব্র গ্যাস সংকট রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে গ্যাস লাইন সংস্কার হয়নি। এর ওপর রাস্তা উঁচু করার ফলে গ্যাস লাইন নিচে চলে গেছে। আমরা তিতাসের এমডির সঙ্গে কথা বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান তারা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমাদের প্রতিটি বাড়িতে তিন ধরনের বিল দিতে হয়—লাইন গ্যাসের বিল, বিদ্যুতের চুলা এবং তাও না হলে এলপিজি। তাহলে এলাকার মানুষ অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে কিভাবে?

এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রিয় এলাকাবাসী, আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে—যেখানে কোনো সম্মানীয় ব্যক্তিকে অসম্মান করা হবে না। শ্রমজীবী মানুষকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাই মিলে বসে সকলের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার মুরুব্বি, আলেম সমাজসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী পণ্ডিতরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাকে যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে। আমরা সবাই মিলে দিন-রাত পরিশ্রম করে এই শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

নিজেকে এলাকার প্রতিনিধি না ভেবে সন্তান হিসেবে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমার শৈশব ও কৈশবের সবকিছুর সাক্ষী আপনারা। ৫ আগস্টের আগে পরিবেশ হয়নি আপনাদের সঙ্গে পথ চলার, কিন্তু এখন আপনাদের সঙ্গে পথ চলার ও আপনাদের জন্য কিছু করার সময় এসেছে। আপনাদের প্রতিটি ভোট আমার কাছে আমানত হিসেবে থাকবে। আপনাদের আমানত আমি জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবো—আমি অঙ্গীকার করছি। আমি দিন-রাত পরিশ্রম করে এই এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করবো।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল বা ব্যক্তির সৃষ্টি করা গুজবে কান না দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে রবিন বলেন, আগামী নির্বাচন আশা করি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। আপনারা কারো কথায় কান না দিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আপনাদের মূল্যবান ভোটে বিএনপি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করে নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।





Loading...
Loading...


রাজনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy