
X
রাজধানীর কদমতলীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নারী নেত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে কদমতলীর দিপ্তীর গলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
আহত মারিয়া ইসলাম বেবির স্বামী মনিরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের রুকন এবং কদমতলীর একটি ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন। বুধবার বিকেলে তিনি আরও কয়েকজন নারী কর্মীর সঙ্গে ঢাকা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
বিকেল তিনটার দিকে ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের দিপ্তীর গলিতে প্রচারণাকালে তারা আলাদা হয়ে বাড়ি বাড়ি ভোট চাইছিলেন। এ সময় মারিয়া ইসলাম বেবি একা হাঁটার সময় পেছন থেকে কেউ তার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।
আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে বসে পড়লে এক রিকশাচালক তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় দুটি সেলাই দেওয়া হয়। হামলাকারী কে বা কী দিয়ে আঘাত করা হয়েছে—তা তিনি দেখতে পাননি বলে জানান তার স্বামী।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, জামায়াতের এক নারী নেত্রী আহত হওয়ার বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ আহত নারীর সঙ্গে কথা বলেছে এবং ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
বিবৃতিতে তারা নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ ধরনের হামলাকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে এই ঘটনায় পরিবার বা জামায়াতে ইসলামী সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম উল্লেখ করে অভিযোগ না করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীর চাচাতো ভাই বলে পরিচয় দেওয়া ‘রমজান’ নামের এক ব্যক্তিকে হামলাকারী হিসেবে দায়ী করে প্রচারণা চালানো হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ও দলটির প্রার্থী যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্য সচিব ও ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাকে প্রার্থীর চাচাতো ভাই হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, তিনি বাস্তবে তানভীর আহমেদ রবিনের কোনো আত্মীয় নন।
বিএনপির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই একটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা বলেন, “এই ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা নেই।”
এছাড়া বিএনপি অভিযোগ করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে পারে এমন অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত।