প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৯ এএম আপডেট: ০২.০২.২০২৬ ১২:৪৮ এএম (ভিজিট : ২১১)

X
সংগৃহীত ছবি
প্রায় তিনমাস আগে দেশে ফেরার জন্য ট্র্যাভেল পারমিটের আবেদন করেও এখনো তা পাননি সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি। কেন তাকে এই পারমিট দেয়া হচ্ছেনা, এই প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারছে না ক্যানাডার বাংলাদেশ দূতাবাস এমনকি সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অভির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ নভেম্বর নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে দূতাবাসে ট্রাভেল পারমিটের জন্য আবেদন পাঠান তিনি। সাথে পাঠিয়েছেন অন্যান্য ডকুমেন্ট এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বরাবরে একটি দরখাস্ত যাতে উল্লেখ করা হয়েছে কেন তিনি দেশে আসতে চান। সূত্র আরো জানায়, অভির নামে ইস্যুকৃত বাংলাদেশী পাসপোর্টটির মেয়াদ ২০০৬ সালে ঊত্তীর্ণ হয়ে গেছে। দূতাবাসে বেশ কয়েকবার আবেদন করার পরেও তাকে নতুন পাসপোর্ট দেয়া হয়নি, এমনকি তার পুরোনো পাসপোর্টের নবায়নও করা যায়নি। অভির আইনজীবী ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলে ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল হাই কোর্ট দেশে ফেরার জন্য অভিকে ট্র্যাভেল পারমিট দিতে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসকে নির্দেশ দেয়। তারপরেও অভিকে ট্র্যাভেল পারমিট দেয়া হয়নি।
নিজ দেশের নাগরিককে দেশে ফেরার জন্য এই পারমিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইস্যু করার নিয়ম থাকলেও কেন অভিকে ট্র্যাভেল পারমিট দেয়া হচ্ছেনা, সে বিষয়ে ক্যানাডার বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে কোনো কিছু জানাতে তারা অপরাগতা জানায়।
উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক অভির সাথে ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের প্যানেল মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি হাইকমান্ডের সাথে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ঐ বছরের ১৭ নভেম্বর কারামুক্তির অব্যবহিত পরেই তৎকালীন এরশাদ সরকারের সাথে 'যোগাযোগের' অভিযোগে তাকে সহ ১২ জন ছাত্রনেতাকে ছাত্রদল থেকে বহিস্কার করা হয়। এই বহিস্কারের বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সমর্থকেরা। এই প্রতিকূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশত্যাগ করেন অভি। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংককের জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে শরণার্থী মর্যাদার জন্য আবেদন করেন। ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের দায়ের করা সব মামলা থেকে অভি তার অনুপস্থিতে খালাস পান। ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের গেস্ট রুম থেকে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন বহিস্কৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দসহ অভিকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৫ সালের ৫ মার্চ উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি মুক্তি পান এবং তার বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়ও খালাস পান তিনি।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অভি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিজয়ী হন। তিনি ৭ম সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। সংসদে তিনি জেন্ডার সমতা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকারের পক্ষে সরব ছিলেন। মেয়াদকালীন সময়ে নির্বাচনী এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করে তিনি দেশব্যাপী আলোচিত ও প্রশংসিত হন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০০২ সালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে ও রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি দেশত্যাগ করেন এবং ২০০৩ সালে তিনি ক্যানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তারপর থেকে তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রয়েছেন।