বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত নির্বাচন-পরবর্তী ঐক্য সরকার গঠনের উদ্যোগে সম্মতি নেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তাঁর বিশ্বাস, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসনে জয়লাভ করবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে আমি কীভাবে ঐক্য সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কতটি আসনে জয়ী হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তারা যদি বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকে, তাহলে তিনি তাদের একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান।
বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা এবারের নির্বাচনে বিএনপি সংসদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পাবে। ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলো জোটের শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
যদিও তারেক রহমান নিজে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার কথা বলেননি। তিনি রয়টার্সকে বলেন, “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জয়ী হব।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে নির্বাচন শেষে জামায়াতে ইসলামী ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের ধাক্কা খায়। সে সংকট কাটিয়ে উঠতেই সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছে দলটি।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয় বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশ কি ভারতের পরিবর্তে চীনের দিকে ঝুঁকবে? জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে, যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া হবে যাদের প্রস্তাব জনগণ ও দেশের জন্য উপকারী হবে। আমরা কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকব না।”
শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।
এছাড়া, তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশেই অবস্থান করতে পারবেন।