
X
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শনিবার (৭ফেব্রুয়ারী) বেলা আড়াইটার দিকে নীলফামারী পৌরসভা মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরে তিস্তা ব্যারেজের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, নীলফামারীকে শিল্পাঅঞ্চল হিসেবে গড়া তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থাপন করা হবে কলকারখানা। তরুণদের চাকরি ব্যবস্থা, বেকার যুবদের প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করে প্রশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা মাথায় রেখে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে বলেও ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে। কারণ নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন ধর্ম-বর্ণ ছিলো না। ঠিক ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনেও কোন ধর্ম-বর্ণ ছিলো না। আমরা ক্ষমতায় আসলে কোন ধর্ম-বর্ণ দেখা হবে না। আমি পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ গঠনের। এ ক্ষেত্রে দল-মত নির্বিশেষে একসাথে আমরা কাজ করতে চাই। সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের ক্ষমতার মুল্যায়নের সময় এসেছে এখন মেধা ও যোগ্যতার বিচার করতে চাই। সবার জন্য নিরাপদ একটি বাংলাদেশ গড়তে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহবান জানাই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটারদের ভয়ভীতি এমনকি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা অন্যায়কারীদের শাস্তির আওতায় আনতে চাই।
বক্তব্য শেষে সমাবেশে নীলফামারী-১ আসনে জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল আলম আফেন্দী, নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী ও নীলফামারী-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা বিএনপির আহবাায়ক কমিটির সদস্য মুক্তার হোসেন, নীলফামারী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব উর রহমান ও নীলফামারী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আল মাসুদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেদওয়ানুল হক বাবুসহ আরও অনেকে।
এর আগে, দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেন, মানুষ জীবন দিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে অত্যাচারিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। তাদের এই মূল্যায়ন কখনো বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এবারে নির্বাচন শুধু দেশের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য নয়, এবারের নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন।
তিনি বলেন, গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে অনেকটা পিছিয়ে গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের যুবক তরুণের যেভাবে কর্মসংস্থান তৈরির ব্যবস্থা করার কথা ছিল, সেভাবে ব্যবস্থা হয়নি। দেশের মা-বোনদেরও সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। দেশের কৃষকদের যেভাবে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার কথা ছিল, সেভাবে তাদের সহায়তা করা হয়নি।
তারেক রহমান আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে চায় বিএনপি। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী ও নারীরা নিরাপদে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারবেন।