
X
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে কেউ আর চাঁদাবাজির সাহস পাবে না এবং কোনো অফিস-আদালতে ঘুষের সুযোগ থাকবে না।
তিনি শনিবার বিকাল তিনটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্টিত জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় ডা. শফিক বলেন, আমি প্রধানন্ত্রী হবো কি না, তার ফয়সালা আল্লাহর হাতে। তবে তাঁর তেমন ইচ্ছা হয় তাহলে সিলেটের বঞ্চনার অবসান হবে। দীর্ঘদিন থেকে সিলেট অঞ্চল যেসব সমস্যায় জর্জরিত তার অবসান হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সিলেটের ন্যায্য হিস্যা অবশ্যই আদায় করা হবে। যেসব ক্ষেত্রে সিলেটবাসী বঞ্চিত সেসব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সিলেটের নদ-নদীগুলো এখন কংকালে পরিণত হয়েছে। দখল দূষণে একাকার। আমরা অন্যান্য দেশ যেভাবে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তার স্বাভাবিক গতিপথ ধরে রেখেছে আমরাও তাই করবো।
তিনি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এটাকে নামে আন্তর্জাতিক করে ফেলে রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করায় এখানে সব ধরনের বিমান বা এয়ারক্রাফট উঠানামা করতে পারেনা। আমরা ক্ষমতায় গেলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্বয়ং সম্পূর্ণ আন্তর্জাকি বিমানবন্দরে রূপান্তর করবো।
তিনি আরও বলেন, আমরা উল্টো হাটবো কেন, চিংড়ি মাছের মতো উল্টোতো হাঁটার কথা নয়। আমরা সিংহের মতো এগিয়ে যাবো। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ম্যানচেষ্টার ফ্লাইটতো চালু হবেই, আমরা আরও নতুন নতুন রুটে ফ্লাইট চালু করবো।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ প্রবাসে যায়। তাদেরকে মুখে রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলা হয়। কিন্তু কেউ মধ্যপ্রাচ্যে মারা গেলে তার লাশ দেশে ফেরাতে শুরু হয় ঠেলাঠেলি। বিষয়টি অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমরা এর অবসান ঘটাবো। সসম্মানে তাদের লাশ দেশে ফেরাবো। এমনকি কোনো প্রবাসী আয় রোজগারের আগে মারা গেলে তার পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিবে দেশ নিবে- আমরা তেমন একটা ব্যবস্থা করবো।
তিনি হাওলাঞ্চলের রাজধানী হিসাবে পরিচিত সুনামগঞ্জের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, সারাদেশের ধানের চাহিদা পূরণ হয় যে সুনামগঞ্জের ধান দিয়ে সেই সুনামগঞ্জের হাওরের বাঁধগুলো নাকি ইদুরে কেটে ফেলে? ইদুরতো কাটবেই। কারণ, না কাটার ব্যবস্থার টাকাতো চলে যায় কিছুসংখ্যক দুর্ণীতিবাজের পেটে। আমরা সেটা বন্ধ করবো এবং সুনামগঞ্জকে দেশের কৃষিখাতের রাজধানী করবো ইনশাল্লাহ।
জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে গেল ৫৪ বছর ধরে দেশে যে দুর্ণীতি শোষণ ব্যবস্থা চলে আসছে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। মানুষকে তার অধিকার ও সম্মাণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোথাও কোনো অফিসে দুর্ণীতি চলবেনা।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশ থেকে সাড়ে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এটা কৃষক শ্রমিক মজুরের টাকা। আমরা ক্ষমতায় গেলে কোনো পাচারকারী শান্তিতে ঘুমাতে পারবেনা। তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে রাষ্ট্রের কোষাঘারে জমা দেওয়া হবেনা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা হযরত শাহজালাল (রহ.) এর উত্তরসূরি, যিনি অন্যায়, জুলুমতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার হাতে নিয়ে মজলুমের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, প্রিয় বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটির উপরে কেউ আর চাঁদাবাজির সাহস করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা যদি নির্বাচিত হই, কোনো অফিস, আদালত, কার্যালয়ে কারো ঘুষ নেয়ার সুযোগ হবে না, সাহস হবে না। সম্মানের সাথে সমস্ত নাগরিক বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চির উপর বেইনসাফি করতে পারবেন না এবং প্রতি ইঞ্চি মাটি তার পাওনা বুঝে নেবে বলে অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, যেই এলাকা যত বেশি বঞ্চিত, সেই এলাকাতেই সর্বপ্রথম উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, নামে মাঝি কাজে পাজি। জেলেদের নামে বিলগুলো কারা নেয়, আমরা জানি। আমরা নির্বাচিত হলে এই সমস্ত দুর্নীতির মূল আমার কেটে দেবো। জাল যার জলা তার, তা নিশ্চিত করা হবে।
সিলেটের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এতিমের মতো পড়ে আছে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কোনো কার্যক্রম নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা সাহায্য করেন, যদি সুযোগ হয় আপনাদের সব দাবিগুলো বাস্তবায়ন হবে। ডাবল লাইনের ব্রডগেজ ট্রেন, বুলেট ট্রেন সবকিছু হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু সিলেট হবে না, বাংলাদেশের জায়গায় জায়গায় হবে। তবে সিলেট আর বঞ্চিত হবে না।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখার পর একে একে সিলেটের বিভিন্ন আসনে জামায়াত ও তার জোটের বিভিন্ন প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। পাশাপাশি সিলেট-১ সংসদীয় আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও এতে বক্তব্য রাখেন।