দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনআস্থা পুনর্গঠন, নিরাপত্তা জোরদার এবং অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা
নতুন সরকার তার কাজের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনাই নির্ধারণ করবে প্রশাসনের গতিমুখ ও কার্যক্রমের গতি।
সরকারের প্রথম দিনেই মন্ত্রিসভার বৈঠক, মন্ত্রীদের কর্মব্যস্ততা এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে অগ্রাধিকারের আভাস পাওয়া গেছে।
অগ্রাধিকার খাত
প্রথম পর্যায়ে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—
● দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
● আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন
● বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা
● দুর্নীতি দমন
● শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা নিরসন
● সেবামুখী প্রশাসন নিশ্চিতকরণ
● ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা
সরকার চায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তী সময়ের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে।
বিশ্লেষকদের মতামত
শিক্ষক ও কলামিস্ট খালিদুর রহমান বলেন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নই হবে মূল পরীক্ষা।
“ঘোষণার চেয়ে কার্যকর বাস্তবায়ন এবং তথ্যনির্ভর মূল্যায়নই শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রতি জনআস্থা নির্ধারণ করবে।”
একাধিক মন্ত্রী জানিয়েছেন, ছয় মাসের মধ্যে এসব অগ্রাধিকারের বাস্তব অগ্রগতি দেখাতে চান তারা। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পৃথক কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান- এসব ক্ষেত্র দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি তরুণ প্রজন্মের কাছে আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।