জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করার পরিকল্পনা আমিনুলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধুলা

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা

2026-02-22T19:54:14+00:00
2026-02-22T19:54:14+00:00
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬
   
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করার পরিকল্পনা আমিনুলের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ৪৪)
 যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক-ইন্টারনেট
X

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক-ইন্টারনেট

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক। রোববার রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন অনিয়মিত থাকা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার আবার নিয়মিতভাবে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের পুরস্কার প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর থেকে প্রতিবছর যেন নিয়মিতভাবে পুরস্কার দেওয়া যায়, সে চেষ্টা থাকবে।
নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও অবসরের পর পুনর্বাসন বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন আমিনুল।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগে সাবেক ক্রীড়াবিদদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তৃণমূল উন্নয়নের অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘শিশুদের ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি স্কুলে ক্রিকেট ও ফুটবলসহ অন্তত পাঁচটি খেলার সুযোগ রাখতে চাই।’
সভায় ক্রীড়া সাংবাদিকরা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন, মানসম্মত কোচ নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ফেডারেশনগুলোর জবাবদিহি এবং খেলোয়াড়দের চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা জোরদারের প্রস্তাব দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব সুপারিশ বিবেচনা করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। তবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে বাজেট, জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট অত্যন্ত সীমিত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে খুবই স্বল্প অনুদান দেয়। যা দিয়ে জেলায় সকল খেলা পরিচালনা করা সম্ভবও নয়। তাই সাংবাদিকরা জেলা পর্যায়ে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জেলা-বিভাগে স্টেডিয়াম থাকলেও সেটা ব্যবহার অনুপযোগী। অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বারোপ করেন অনেকে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পাশাপাশি মহিলা জেলা ক্রীড়া সংস্থাও রয়েছে প্রতি জেলায়। মহিলা ক্রীড়া সংস্থা জন্ম থেকেই অ্যাডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, বাজেট সব কিছুতেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় গঠনতন্ত্র সংস্কার করেও নির্বাচনের প্রস্তাব দেন সাংবাদিকরা। তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামত ও বক্তব্য শুনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেলাধূলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর অলিম্পিক। অলিম্পিকে পদক বাংলাদেশের কাছে এখনো স্বপ্ন। তাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাফ, এশিয়ান ধাপে ধাপে এগুতে চান। কোন খেলাগুলোকে আন্তর্জাতিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান। অনেক সাংবাদিক দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে শুটিং, আরচ্যারির নাম উচ্চারণ করেছেন। এরপর তৃতীয় নামটি এসেছে হকির। অনেক দিন থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের সবাই শুনে আসছে হকির অনেক সম্ভাবনা কিন্তু হকির সংগঠকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও সমস্যা। এটাও সাংবাদিকরা তুলে ধরেছেন ক্রীড়া মন্ত্রীর কাছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অধিভুক্ত ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা ৫২। এত সংখ্যক ফেডারেশনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিকরা বিগত এক যুগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার তালিকা করার পরামর্শ দেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে একটি মূল্যায়ন কমিটি করার মতামতও দেয়া হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্কুল পর্যায়ে পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করতে চায়। দুই জনপ্রিয় খেলা ফুটবল, ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য তিন খেলা কোনটি হতে পারে এ নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত চান। সাংবাদিকরা কারাতে, দাবা, হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিক্সকে অর্ন্তভূক্ত করার ব্যাপারে পরামর্শ দেন।
ক্রীড়াঙ্গনের আতুড়ঘর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। এই প্রতিষ্ঠান থেকে যে মানের ক্রীড়াবিদ আসার দরকার সেটা আসে না, কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো জবাবদিহিতা নেই। স্টেডিয়ামে দোকানের ভাড়া কম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ রাজস্ব পায় না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনগুলোর অভিভাবক কিন্তু এখানে ক্রীড়াঙ্গনের কেউ সম্পৃক্ত পরিচালক পদে নয় ফলে একটা দূরত্ব বা সমন্বয়হীনতা থাকে। এ রকম আরো অনেক সমস্যা সাংবাদিকরা তুলে ধরেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সকল সমস্যার সমাধানই করতে চান ধীরে ধীরে, ‘আমরা আপনাদের প্রস্তাব, মতামতগুলো শুনেছি। এটা আজ শুনলাম শেষ না, এখান থেকে কাজের শুরু। এগুলো পর্যালোচনা হবে, প্রয়োজনে কমিশন বা কমিটি হয়ে তদারকি চলবে।’
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের তীর্থ স্থান পল্টন-গুলিস্থান। সেই এলাকা সন্ধ্যার পর থেকে মাদকের অভয়ারণ্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল, গতকাল সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট কমিউনিটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’







Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy