প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম আপডেট: ০৩.০৩.২০২৬ ৪:৪০ পিএম (ভিজিট : ১২৮)

X
প্রতীকী ছবি
পরকীয়া বা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের এক জটিল ব্যাধি। অনেক সময় বিশ্বাসের দেওয়ালে ফাটল ধরে খুব নীরবে। এ বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সমাজে খুন-খারাবির মতো ঘটনাও ঘটছে। বর্তমানে পরকীয়ার আধিক্যের কারণে সমাজে নানা বিশৃঙ্খলার দেখা দিচ্ছে। আর এই পরকীয়ার নিষ্ঠুর বলি হচ্ছে স্বামী বা স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। আপনার সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়েছেন কি না, তা সরাসরি বোঝার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকলেও কিছু আচরণগত পরিবর্তন বড় সংকেত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি:
১. সঙ্গী ফোনের পেছনে কত সময় ব্যয় করছেন সেদিকে নজর রাখুন। একসঙ্গে বসে থেকে বা ঘুরতে গেলে যদি তিনি ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, মেসেজ বা ইন্টারনেট ব্রাউজিং করেন- তাহলে তা নিশ্চিতভাবে অন্য একটি সম্পর্কেরই ইঙ্গিত। এ ছাড়া দিনের বেশির ভাগ সময়ে যদি তাকে ফোনালাপে ব্যস্ত পাওয়া যায় তাহলেও বিষয়টি লক্ষ্যণীয়। অনেকে বলতে পারেন কাজের প্রয়োজনে মানুষ ফোন বেশি ব্যবহার করতেই পারে। এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলিতে কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
২.সঙ্গী যদি আপনাকে আগের চেয়ে কম সময় দেওয়া শুরু করেন, নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে বিনা কারণে, তাহলে ধরে নিতে পারেন তিনি পরকীয়ায় লিপ্ত। অবশ্য তিনি নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সেটা আলাদা বিষয়। এই পার্থক্যটা আপনাকেই বুঝতে হবে।
৩. আপনার সঙ্গীর কথায় রাগের সুর। বিনা কারণে অযৌক্তিক রাগ করা, কিংবা সবসময় খিটখিট করা পরকীয়ার অন্যতম লক্ষণ।
৪. আপনার স্বামী/স্ত্রী আপনার প্রতিদিনকার রুটিন সম্পর্কে হঠাৎ অতিরিক্ত নজর দিচ্ছেন কিনা অর্থাৎ আপনি কটায় বাড়ি ফিরবেন বা কোন কোন জায়গায় কখন যাবেন এই ধরনের প্রশ্ন করছেন কিনা। তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আপনার চোখ এড়িয়ে নিরাপদে সম্পর্ক চালিয়ে যেতেই তার এত জিজ্ঞাসা।
৫. আপনার স্বামী/স্ত্রী যদি হঠাৎ নিজের ত্বক, সাজগোজ, শারীরিক গঠন কিংবা পরিহিত পোশাক আশাকের দিকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে শুরু করেন, তাহলে আপনি একে পরকীয়ার একটি লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন। এখানে একটি বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া দরকার যে সঙ্গী আপনার জন্যই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করছেন কিনা।
এই লক্ষণগুলো থাকলেই কেউ পরকীয়ায় লিপ্ত এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অনেক সময় কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেও মানুষ এমন আচরণ করতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সরাসরি ও খোলামেলা আলোচনা করা এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি। অন্ধ বিশ্বাস যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ভিত্তিহীন সন্দেহ একটি সুন্দর সম্পর্ককে ধ্বংস করে দিতে পারে।