বসন্তে কাঞ্চনের বাহার

চৌধুরী তানভীর, বুলেটিন ডেস্ক

লাইফস্টাইল

বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে রঙের উৎসবের সাথে ফুটেছে নান্দনিক কাঞ্চন ফুল। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি এখন নবযৌবনা। কৃষ্ণচূড়া বা

2026-03-04T10:47:06+00:00
2026-03-04T10:47:06+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বসন্তে কাঞ্চনের বাহার
চৌধুরী তানভীর, বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম   (ভিজিট : ৯০)
বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে রঙের উৎসবের সাথে ফুটেছে নান্দনিক কাঞ্চন ফুল
X

বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে রঙের উৎসবের সাথে ফুটেছে নান্দনিক কাঞ্চন ফুল

বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে রঙের উৎসবের সাথে ফুটেছে নান্দনিক কাঞ্চন ফুল। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি এখন নবযৌবনা। কৃষ্ণচূড়া বা পলাশের মতো কাঞ্চন ফুল খুব একটা শোরগোল ফেলে না ঠিকই, তবে এর মৃদু উপস্থিতি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। রাজধানীর পার্ক, সড়কের বিভাজক এবং গ্রামীণ মেঠোপথের ধারে এখন দেখা মিলছে গোলাপি, সাদা আর হালকা বেগুনি রঙের এই মায়াবী ফুলের।

উদ্ভিদবিদদের মতে, কাঞ্চন মূলত বসন্তের প্রথম ভাগের ফুল। এর পাঁচটি পাঁপড়ি আর ডালের আগায় থোকায় থোকায় ফুটে থাকার দৃশ্য যেন প্রকৃতির এক নিপুণ চিত্রকর্ম। খুব বেশি সুবাস না থাকলেও এর রঙের বাহার আর পাতার বিশেষ গড়ন (যা দেখতে অনেকটা উটের ক্ষুরের মতো) সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে।

কাঞ্চন গাছ সাধারণত খুব বড় নয়, তবে এর সৌন্দর্য অসাধারণ। গাছের পাতাগুলো দেখতে অনেকটা উটের পায়ের ছাপের মতো, যা কাঞ্চন গাছকে সহজেই আলাদা করে চেনায়। কিন্তু বসন্তে যখন ফুল ফোটে, তখন পাতার চেয়ে ফুলই হয়ে ওঠে গাছটির প্রধান অলংকার।
বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহরে কাঞ্চন গাছের দেখা মেলে। রাস্তার ধারে, বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে, পার্কে কিংবা বাড়ির উঠোনে বসন্ত এলেই কাঞ্চন গাছ চারপাশে ছড়িয়ে দেয় রঙের উচ্ছ্বাস। নরম রোদ, মৃদু বাতাস আর কাঞ্চন ফুলে প্রকৃতি যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের আয়োজন করে।

কাঞ্চন ফুলের রঙেও রয়েছে বৈচিত্র্য। সাদা কাঞ্চনের সৌন্দর্য শান্ত ও নির্মল, আর রক্তকাঞ্চনের গোলাপি বা বেগুনি আভা প্রকৃতিকে করে তোলে আরও উজ্জ্বল। ফুলের পাপড়িগুলো কোমল, সূক্ষ্ম ও দৃষ্টিনন্দন। বসন্তের আলোয় সেই পাপড়িতে খেলা করে রঙের মায়া।

গ্রামের পথের ধারে কিংবা শহরের ব্যস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা কাঞ্চন গাছ যেন নীরবে প্রকৃতির গল্প শোনায়। ফুলে ভরা সেই গাছের নিচে দাঁড়ালে মনে হয়, বসন্ত যেন তার সমস্ত রঙ ঢেলে দিয়েছে প্রকৃতির ক্যানভাসে।
মুকসুদপুর উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস আহম্মেদ বলেন, হেমন্তে ফোটা শ্বেত-শুভ্র কাঞ্চনকে দেবকাঞ্চন বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Bauhinia purpurea। উভয় প্রকারের কাঞ্চনেরই উৎপত্তি ভারতীয় উপমহাদেশে। হিমালয়ের পাদদেশ ও আসাম অঞ্চলে দেবকাঞ্চনের আদি নিবাস বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশেও বহুদিন ধরে উভয় ধরনের কাঞ্চনের বংশবিস্তার ঘটছে। দেবকাঞ্চন মাঝারি আকারের গাছ, যার উচ্চতা গড়ে ৮ থেকে ১০ মিটার। এর পাতা রক্তকাঞ্চনের তুলনায় কিছুটা বড়। ফুল সাধারণত ছয় থেকে আট সেন্টিমিটার চওড়া এবং প্রতিটি ফুলে থাকে পাঁচটি পাপড়ি।

শহুরে ব্যস্ততার মাঝে এক চিলতে স্বস্তি নিয়ে আসা এই কাঞ্চন ফুলকে অনেকে ‘বসন্তের হাসি’ বলে অভিহিত করেন। রোদ ঝলমলে দুপুরে যখন হালকা বাতাসে কাঞ্চনের ডালগুলো দুলতে থাকে, তখন মনে হয় যেন ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতি নিজে এই রঙিন সাজে সেজেছে। কেবল সৌন্দর্য নয়, ভেষজ গুণাগুণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এই ফুলের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

বসন্তের এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের পূর্ণতা পেতে তাই একবার হলেও চোখ ফেরাতে পারেন রাস্তার ধারের সেই শান্ত, স্নিগ্ধ কাঞ্চন গাছটির দিকে।



 




  বিষয়:   বসন্ত  কাঞ্চন ফুল  বাহার  Bauhinia purpurea 



Loading...
Loading...


লাইফস্টাইল এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy