
X
প্রতীকী ছবি
বর্তমান সময়ে সমাজে পরকীয়া ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। অনেক সংসার ভেঙে যাচ্ছে এই পরকীয়ার কারণে। আবার অনেকে সহ্য করতে না পেরে আত্নহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অভিনেতার স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন ঘটনার পেছনে পরকীয়া, মানসিক নির্যাতন ও দীর্ঘদিনের আবেগগত ভাঙনের কথা শোনা যাচ্ছে।
গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কথা বলেছেন লাইফস্প্রিং-এর কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট মিথীলা খন্দকার। তিনি জানান, ক্লিনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে সব ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। কিছু কষ্ট কেবল কষ্টই, তার ভাষা নেই, যুক্তি নেই, তবু গভীর।
মিথিলা বলেন, পরকিয়া শুধু বিশ্বাসভঙ্গ নয়, এটি অনেক সময় “ক্রনিক বিট্রেয়াল”এ রূপ নেয়। যখন একজন মানুষ বারবার প্রতারণার শিকার হন এবং সেই সঙ্গে শোনেন“ তোমার সঙ্গেই এটা হওয়ার কথা”, তখন তা আত্মমর্যাদাবোধকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। এর সঙ্গে যদি গ্যাসলাইটিং যুক্ত হয় অর্থাৎ বাস্তবতাকেই অস্বীকার করে ভুক্তভোগীকে বিভ্রান্ত করা হয় তাহলে তৈরি হয় গভীর ‘অ্যাটাচমেন্ট ট্রমা’।
তিনি আরও বলেন, এই ট্রমা একজন মানুষকে এমন এক মানসিক অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে তার নিজের মূল্যবোধ, সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সবকিছুই তুচ্ছ মনে হতে থাকে। জন্ম নেয় “নো ওয়ে আউট” ধরনের কগনিটিভ ডিস্টরশন যেন সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।
পরকীয়া বিষয়টি সামনে আসলে নিজেকে সামাল দেয়া কঠিন যেকোনও মানুষের জন্য। অনেকেই এই পর্যায়ে অস্থির হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। আত্মহত্যার চিন্তা আসে। মূলত এমনটা হয় তীব্র ইমোশনাল ট্রমার কারণে। যেটা আসলে ব্রিট্রায়াল শক এবং বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার কারণেই হয়। এই অবস্থায় নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখটে ৩টি উপায় জানিয়েছেন মনোবিদ।
১। আবেগের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা: সাইকোলজিস্ট মিথীলা খন্দকার বলেন নিজের আবেগের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সবার আগে। আত্মহত্যার চিন্তা আসে `অ্যাকিউট ইমোশনাল ফ্লোডিং’ এর সময়। তাই এই সময় কোনোভাবেই একা থাকা যাবে না। যাকে আপনি বিশ্বাস করেন এম,অন কারোর সঙ্গে কথা বলতে হবে। মনে রাখতে হবে আত্মহত্যার চিন্তা আসা একটা সাময়িক স্ট্রেজ। এটা কেটে যাবে তাই এই অবস্থায় কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
২। কগনিটিভ রেস্ট্রাট্যুরিং অ্যান্ড স্টপ সেলফ ব্লেমিং: অনেকেই পরকীয়ার বিষয়টি জানার পর নিজেকে দোষারোপ করেন। এটা করা যাবে না একেবারেই। মনে রাখতে হবে প্রতারণা করা আপনার সঙ্গীর নিজের ইচ্ছা এটার জন্য নিজেকে দায়ী করার কোনও অর্থ নেই।
৩। সাপোর্ট সিস্টেম অ্যান্ড ইমোশনাল হেলপ: সবশেষ মিথীলা বলেন, আত্মহত্যার চিন্তা আসলে কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের ভাবনা না। এই সময় একা থাকা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সে কারণে আপনাকে সামাল দিতে পারে এমন একতা পরিবেশে থাকতে হবে। পরিবার বা কাছের বন্ধুর সঙ্গে থাকুন। এবং নিজেকে মানিয়ে নিতে একজন কাউন্সিলার কাউন্সিলার বা সাইকোলজিস্টের কাছে যেতে হবে। ট্রমা থেকে বেড়িয়ে আসতে সে আপনাকে সাহায্য করবে। মনে রাখতে হবে সাহায্য নেয়া কিন্তু দুর্বলতা নয়, এটা অনেক বড় শক্তি। একতা জীবন শেষ করার নিজেকে শক্ত করে এগিয়ে যাওইয়া বেশি দরকার।
সঙ্গী পরকীয়া করছে দেখার পর স্বাভাবিক থাকা সহজ নয়। তবুও মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কখনো সমাধান নয়। এটি যন্ত্রণার ইতি টানে না; বরং সেই ব্যথা স্থানান্তরিত হয় সন্তানের কোমল মনে, পরিবারের গভীরে। একটি সাময়িক আবেগগত ভাঙনের জন্য স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া কখনোই সঠিক পথ হতে পারে না। সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, মানুষ ভুল করতে পারে কিন্তু নিজের জীবনের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলা যাবে না। যে ব্যক্তি নিজের ভুলের দায় স্বীকার করে না, তাকে অযথা গুরুত্ব দেয়ার আগে নিজেকে নিয়ে ভাবুন।