প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম (ভিজিট : ৭১)

X
শামীম আরা বেগম
রাজধানীর রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শামীম আরা বেগমের নাম। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেত্রী দলীয় দুঃসময়ে ভূমিকা রাখা, নির্বাচনী লড়াই এবং নানা প্রতিকূলতার মুখে অবস্থান নেওয়ার কারণে আবারও আলোচনায় রয়েছেন।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শামীম আরা বেগম শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে তার স্বামী এম এ কাইয়ুম মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে ঢাকা-১১ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। সেই সময় তিনি মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে দলকে সুসংগঠিত রাখার চেষ্টা চালান।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর মনোনয়নে প্রার্থী হন শামীম আরা বেগম। সে সময় নির্বাচনী পরিবেশকে কেন্দ্র করে নানা চাপ ও বাধার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে। এরপরও তিনি প্রচারণা অব্যাহত রাখেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের রাতেই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ভোট সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনের দিন দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন শামীম আরা বেগম।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নির্বাচন করা এবং মাঠে সক্রিয় থাকা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করেছে। এ কারণেই বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনায় তার নাম সামনে আসছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে শামীম আরা বেগম বলেন, “দলের প্রয়োজনে সব সময় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি। দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আমাকে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের টিকিট দেওয়া হয়েছিল। এখন সংরক্ষিত নারী আসনে দল আমাকে বিবেচনা করবে—এমন প্রত্যাশা করতেই পারি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তা, সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং দুঃসময়ে ভূমিকা—এই বিষয়গুলোই শামীম আরা বেগমকে ঢাকার সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় শীর্ষে নিয়ে এসেছে। এখন শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে তার ভাগ্যে কী আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।