
X
পাকিস্তানের বিপক্ষে রোববার তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ হাসান তামিম
অনেক পথ পাড়ি দিয়ে, প্রতীক্ষার বহু প্রহর পেরিয়ে অবশেষে প্রথম সেঞ্চুরি ধরা দিয়েছে। এখনই তার নামের পাশে ২০টি সেঞ্চুরি দেখার ভাবনা বাড়াবাড়িই মনে হতে পারে। কিন্তু তানজিদ হাসানের স্বপ্নের সীমানা আরও চওড়া। ২০টি কেন, স্বপ্নের তুলিতে আরও বেশি সেঞ্চুরির ছবি আঁকছেন বাংলাদেশের ওপেনার।
তানজিদের বহু প্রতীক্ষিত সেঞ্চুরিটি এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস উপহার দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
আড়াই বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৭৬তম ম্যাচে এসে তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন তিনি। তিনি খরা কাটানোর পরপরই তার বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক ও দেশের এই সময়ের আলোচিত কোচ হান্নান সরকার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ওয়ানডেতে তামিমের (তানজিদ) একটা সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায় - প্রথম ম্যাচ শেষে লিখেছিলাম। সেই মুহূর্তটা অবশেষে এসেই গেল! প্রথম সেঞ্চুরি সবসময়ই স্পেশাল। আশা করি, ওয়ানডেতে তামিমের নামের পাশে অন্তত ২০টা সেঞ্চুরি দেখব। আমার বিশ্বাস, ওর পক্ষে আমার এই চাওয়াটাও পূরণ করা খুব ভালোভাবেই সম্ভব।”
ম্যাচ-সেরা ও যৌথভাবে সিরিজ-সেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসার পর তানজিদকে বলা হলো হান্নানের চাওয়ার কথা। ২৫ বছর বয়সী ওপেনার মিষ্টি হাসিতে বললেন, “ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব। হয়তো এর থেকেও বেশি হতে পারে! স্বপ্ন দেখতে তো কোন সমস্যা নাই। অবশ্যই চেষ্টা করব।”
ওয়ানডে ও টি২০ মিলে আগে ১৬ বার পঞ্চাশের সীমানা ছুঁয়েছেন তিনি। কিন্তু শতরানের ঠিকানা পর্যন্ত যেতে পারেননি একবারও। নিজের ভেতরও সেজন্য আক্ষেপ ছিল, আরও ছিল তাড়না। শেষ পর্যন্ত অধরাকে ধরে ফেলার পর এটিকেই এখন নিয়মিত ব্যাপারে রূপ দিতে চান ২৫ বছর বয়সী ওপেনার,‘ সবসময় চেষ্টা করি দলের জন্য ভালো কিছু অবদান রাখার। আগের ওয়ানডেগুলোর অনেকগুলোতে ভালোভাবে সেট হয়ে আউট হয়ে গেছি। আজকে চেষ্টা করেছি, যেটা ভালো শুরু পেয়েছি, এটা কীভাবে আরেকটু বড় করা যায়।”
‘আরও আগে হয়তো হওয়া উচিত ছিল এটা। করতে পারিনি, অনেকগুলো ভালো ইনিংস ছিল, সেগুলোকে টেনে নিতে পারিনি। যেটা অতীত হয়ে গেছে, ওদিকে তাকাতে চাই না। সামনে এগোতে চাই। যে ভালোটা হচ্ছে, এখন বা যেরকম শেপে আছি, চেষ্টা করব ভালো সময়টা যত লম্বা সময় ধরে রাখা যায়।’ তিনিন আরও যোগ করেন।
যে সেঞ্চুরির জন্য এতটা অপেক্ষা ছিল, সেই সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি ৯৪ থেকে ছক্কা মেরে। সাহসী বটে! প্রথম সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে এমন ঝুঁকির পথ বেছে নিতে রোমাঞ্চপ্রিয় হতে হয়। তবে তানজিদ জানালেন,‘ আমি পরিষ্কার মানসিকতায় ছিলাম। ক্লিয়ার মাইন্ড না থাকলে এরকম সময়ে কেউ এমন ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে না। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে এটা করলে হয়তো ভালো। আমি আমার সিদ্ধান্তে গিয়েছি আর কী।’
প্রথম সেঞ্চুরির পর কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন ও ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের প্রতি। আলাদা করে উল্লেখ করলেন সাবেক ব্যাটসম্যান ও বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস।
তিনি বলেন,‘ চেষ্টা করছি ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা কাজ করার। স্কিল থেকেও মূলত মানসিকভাবে কীভাবে আরও ভালো হওয়া যায়, সেই জিনিসটা চেষ্টা করছি। ব্যাটিংটা নিয়ে আসলে কোচদের সঙ্গেৃঅ্যাশ ভাই আছেন (আশরাফুল), এরপর সালাউদ্দিন স্যার, প্রধান কোচ, সবার সঙ্গে কথা হয়। আরেকটি নাম উল্লেখ করতে চাচ্ছি আজকে। শাহরিয়ার নাফিস ভাই, তার সঙ্গে অন অ্যান্ড অফ আমার কথা হয়। তিনি আমাকে অনেক ভালোভাবে অনুপ্রাণিত করেন। তো ধন্যবাদ সবাইকে।’