স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা যুবদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ আজ চরম হতাশা ও ক্ষোভে ফুঁসছে। অভিযোগ উঠেছে, কঠিন দুঃসময়ে দলকে টিকিয়ে রাখতে যারা নির্যাতন, মামলা, কারাবরণ ও পরিবার বিচ্ছেদের মতো ত্যাগ স্বীকার করেছেন, দলীয় সুদিনে তারাই আজ উপেক্ষিত।
দলীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে যুবদলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা একাধিকবার গ্রেফতার, রিমান্ড, গুমের আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। অনেকেই বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন। কারও পরিবার হয়েছে বিপর্যস্ত, কেউ হারিয়েছেন জীবিকা, আবার কেউ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
এমন বাস্তবতায় যুবদলের নেতারা বিশ্বাস করেছিলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এলে অন্তত দল তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রত্যাশার বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।
বিশেষ করে, ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের আয়োজনকে ঘিরে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বড় একটি অংশকে আমন্ত্রণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ত্যাগী নেতাদের মধ্যে সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদল সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, মাহবুবুল হাসান পিংকু, ইউসুফ বিন জলিল কালু, এড আবু সেলিম চৌধুরী, আলি আকবর চুন্নু, বনি, জাকির হোসেন নান্নু, খালেক হাওলাদার, শহীদউদ্দিন তালুকদার, মোহসীন মোল্লা, মাসুদ আহাম্মেদ মিলন সহ আরও অনেকেই রয়েছেন, যারা দীর্ঘ সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কেউই ঈদ সাক্ষাতে আমন্ত্রণ পাননি।
মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, “যারা দুঃসময়ে রাজপথে ছিল, মামলা-হামলা মাথায় নিয়ে দলকে বাঁচিয়ে রেখেছে, আজ তাদের মূল্যায়ন না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় অভ্যন্তরে নতুন ও পুরনো নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে “হাইব্রিড রাজনীতি”র প্রভাব বলেও উল্লেখ করছেন—যেখানে নতুন করে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা একটি অংশ পুরনো ত্যাগী নেতাদের পাশে ঠেলে দিচ্ছে।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে। কারণ, তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে যদি হতাশা তৈরি হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগঠন পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, বঞ্চিত নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও আড়ালে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের ভাষ্য, “আমরা সম্মান চাই, পদ না হলেও চলবে। কিন্তু সম্পূর্ণ উপেক্ষা মেনে নেওয়া কঠিন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দলীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের যে শক্ত ভিত গড়ে উঠেছিল, তা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।