পৃথিবীর প্রতিটি খাঁটি মুমিনের অন্তরে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে থাকে-প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার সৌভাগ্য লাভ করা। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখেছে, সে প্রকৃতপক্ষে আমাকেই দেখেছে; কারণ শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।” (সহিহ বুখারী)।
এই সৌভাগ্য অর্জন কেবলমাত্র একটি স্বপ্ন নয়; বরং এটি এক মহান আত্মিক প্রাপ্তি। তবে এর জন্য প্রয়োজন আন্তরিক ভালোবাসা, সুন্নতের অনুসরণ এবং কিছু বিশেষ আমল।
নিচে নবীজিকে স্বপ্নে দেখার সহায়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো-
১. অন্তরে গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি
রাসূল (সা.)-এর প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। নিজের জীবন, পরিবার ও সম্পদের চেয়েও তাঁকে বেশি ভালোবাসা এবং তাঁর সীরাত নিয়ে চিন্তা করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। এই ভালোবাসাই নবীজির দিদারের পথ সুগম করে।
২. সুন্নতের অনুসরণ
নবীজির জীবনধারা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, আচরণ ও ইবাদতে তাঁর আদর্শ মেনে চললে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায় এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
৩. বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ
নবীজির ওপর দরুদ পাঠ তাঁর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। নির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকলেও সারাক্ষণ দুরুদ পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উত্তম। বিশেষ করে জুমার দিনে দুরুদের গুরুত্ব অনেক বেশি।
৪. ঘুমের সুন্নতি আদব পালন
ঘুমানোর আগে কিছু সুন্নতি আমল অনুসরণ করা উপকারী-
●অজু করে শোয়া
●ডান কাতে শোয়া
●তওবা ও ইস্তেগফার করা
এসব আমল অন্তরকে পবিত্র রাখে এবং ভালো স্বপ্নের পরিবেশ তৈরি করে।
৫. নির্দিষ্ট দুরুদ ও দোয়া পাঠ
কিছু বিশেষ দুরুদ ও দোয়া পাঠ করা উত্তম-
●দুরুদে ইব্রাহিম
●দুরুদে তুনাজ্জিনা বা শাফি’
●সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দেওয়া
৬. হালাল উপার্জন ও পাপ থেকে বিরত থাকা
পবিত্র হৃদয় ছাড়া নবীজির নূরানি দর্শন সম্ভব নয়। তাই হারাম থেকে বেঁচে থাকা, চোখ ও অন্তরের হেফাজত করা অত্যন্ত জরুরি। পাপমুক্ত জীবন যাপন এ পথে সহায়ক।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
নবীজিকে স্বপ্নে দেখা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত। নির্দিষ্ট আমল করার পরও যদি তাৎক্ষণিকভাবে এই সৌভাগ্য না আসে, তবুও হতাশ হওয়া উচিত নয়। আন্তরিক ভালোবাসা ও আমল অব্যাহত রাখাই একজন প্রকৃত উম্মতের কাজ। আল্লাহ ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় এই মহাসৌভাগ্য দান করতে পারেন।