
X
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে টিকার যে কোনো ধরনের ঘাটতি এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে ১৫ মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় সব ধরনের টিকা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি সব সময় কমপক্ষে ছয় মাসের টিকা মজুত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো পরিস্থিতিতেই সংকট সৃষ্টি না হয়।
সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিন্দাপার্ক সংলগ্ন লিটল এঞ্জেলস সেমিনারিতে আয়োজিত “দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুস্থ বিকাশে পুষ্টির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মায়ের দুধ সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ পুষ্টির উৎস হিসেবে কাজ করে। তিনি মায়েদের সন্তানদের নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, এতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নানা ধরনের অসুখ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে জানান, বর্তমান ৫০ শয্যার হাসপাতালটি শিগগিরই ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি প্রধান মেগান বলডিন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের উপপ্রতিনিধি এম্মানিউলি এবরিউক্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির এবং জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় অবস্থিত একটি স্কুল কেন্দ্রে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বিশেষ দূত চার্লস হার্ডার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।