
X
রবিউল ইসলাম নয়ন
‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে অভিযুক্ত করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন বলেছেন, গুপ্ত রাজনীতি ভয়ংকর। গুপ্ত রাজনীতি দেশের মূল ধারার রাজনীতিকে বিষাক্ত করে, কলুষিত করে। আমাদের জানতে হবে গুপ্ত রাজনীতি বিষয়টা কী? গুপ্ততে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলবে, কিন্তু সেটা চলবে অন্য পরিচয়ে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক দলের তেমন কোন অবস্থানই ছিল না। অন্য কোনো দল করলে হল থেকে বিতাড়িত হতে হতো। ছাত্রদলকে তো ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেওয়া হতো না। কিন্তু ২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেখা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীরা তো ছিলই, এমনকি তাদের রীতিমতো কমিটি পর্যন্ত ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রবিউল ইসলাম নয়ন এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই যে অন্য পরিচয়ে থেকে গোপনে নিজের রাজনীতিটা করে যাওয়া, এটাকেই বলা হচ্ছে গুপ্ত রাজনীতি। গুপ্ত রাজনীতির অসাধারণ একটা উদাহরণ তৈরি করেছে ছাত্রশিবির।
গুপ্ত শিবিরকে চ্যালেঞ্জ করে নয়ন বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে তাদের শিবিরের যতগুলো কমিটি ছিল, সেগুলোতে আসলে কারা কারা ছিল তা প্রকাশ করুক। নামগুলো প্রকাশ পেলে বোঝা যাবে তারা কোন কোন সংগঠনের পরিচয়ে গুপ্তভাবে ছিল। বলাবাহুল্য, ছাত্রশিবির তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। আগে না হয় একটা প্রতিকূল পরিবেশ ছিল, তাই তারা গুপ্ত থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। এখন তো আর সেই অবস্থা নেই। তাহলে এখনও কেনো তাদের পুরানো নেতৃত্বের নামগুলো প্রকাশে দ্বিধা করছে তারা?
এখনো ছাত্রদল, বামপন্থী সহ অন্যান্য সংগঠনেও ছাত্র শিবিরের অনেকে ছদ্মবেশে আছে দাবি করে তিনি বলেন, তারা হয়ত সেইসব সংগঠনে দাপটের সঙ্গে বিরাজ করছেন। সে কারণেই শিবির পুর্ণাঙ্গ কমিটিগুলোর নাম প্রকাশ করতে চান না। সকল সংগঠনের মধ্যে এ নিয়ে কেবল আলোচনাই নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে আতঙ্ক পর্যন্ত আছে।
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল একটা কথা বলেছেন- 'মানুষ মাত্রই রাজনৈতিক জীব।' তাহলে সাধারণ ছাত্র নামধারীরা কারা? অনেকে বলছেন, এরা আসলে ছাত্র শিবিরের লোক। ছাত্র শিবিরের নতুন ছদ্মবেশ হচ্ছে ‘সাধারণ ছাত্র।' তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে গুপ্ত রাজনীতি করছে। জিজ্ঞাসা করলে বলছে, আমরা সাধারণ ছাত্র। এটা শিবিরের বহুল ব্যবহৃত এবং পরীক্ষিত কার্যকর একটা পদ্ধতি। প্রয়োজন অনুযায়ী এরা কখনো অরাজনৈতিক সাধারণ ছাত্র, আবার কখনো বা শিবিরের পরীক্ষিত কর্মী।
চারিদিকে আওয়াজ উঠেছে দাবি করে কয়েকটি স্লোগান জুড়ে দেন তিনি। 'গুপ্ত যাদের অবস্থান- তাদের বাড়ি পাকিস্তান' ‘গুপ্ত তোরা দেশ ছাড়-তোদের বাড়ি পাকিস্তান, ‘‘৭১-এর খুনি যারা, গুপ্ত চক্রান্তে লিপ্ত তারা,’’ ‘‘যুবদলের এক ডাক, অপশক্তি নিপাত যাক’’, ‘‘৭১-এর খুনি যারা, গুপ্ত চক্রান্তে লিপ্ত তারা ’, ‘‘যুবদলের গর্জন, দেশবিরোধীর বিসর্জন’’।