
X
শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাসেবা চলমান থাকলেও জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহনাজ পারভীন গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে ৫০টি বেড থাকলেও বর্তমানে মেডিকেল অফিসারের ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন এবং আউটডোরে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নেন।
হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য আরও অন্তত একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। পরিচ্ছন্নতা কর্মী বর্তমানে মাত্র দুইজন থাকায় হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আরও জনবল দরকার।
স্টোর কিপারের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে কম্পিউটার অপারেটরকে দিয়ে অতিরিক্তভাবে স্টোর কিপারের দায়িত্ব পালন করাতে হচ্ছে। বাবুর্চীর পদও খালি থাকায় রোগীদের সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।
ডা. শাহনাজ পারভীন জানান, চিকিৎসকদের জন্য ১৬ জনের আবাসন ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৭ জন চিকিৎসক কোয়ার্টারে থাকেন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বেশ কয়েকটি কোয়ার্টার অকেজো হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হলে চিকিৎসকদের আবাসন সংকট অনেকটাই কমবে।
তিনি আরও বলেন, হামের টিকা পর্যাপ্ত থাকলেও এন্টিভেনম (সাপের কামড়ের প্রতিষেধক) এবং জলাতঙ্ক রোগের টিকা হাসপাতালে নেই। এসব জরুরি টিকা দ্রুত সরবরাহ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখনো তা পাওয়া যায়নি।
লোডশেডিংয়ের সময় ব্যবহারের জন্য জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় সেটি সচল রাখা সম্ভব হয় না। এজন্য নিয়মিত তেল বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে অতিরিক্ত নার্স, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, স্টোর কিপার, বাবুর্চী, জরুরি ওষুধ সরবরাহ, অ্যাম্বুলেন্স বৃদ্ধি, কোয়ার্টার সংস্কার এবং জেনারেটরের জন্য জ্বালানি বরাদ্দকে জরুরি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শাহনাজ পারভীন বলেন, “সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। সরকার প্রয়োজনীয় জনবল ও সুবিধা বাড়ালে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান হলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন।