প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১:০৬ পিএম আপডেট: ০৬.০৫.২০২৬ ১:১৫ পিএম (ভিজিট : ৬৪)

X
চিকিৎসক সংকটে বাঙ্গরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ৪০ হাজার মানুষ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা সদরে অবস্থিত বাঙ্গরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল অফিসার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ফলে এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯০০ সালে “শান্তি দাতব্য চিকিৎসালয়” নামে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৭ সালে বাঙ্গরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে পুন স্থাপিত হয় । প্রায় ১২৬ বছরের পুরোনো এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। বর্তমানে একজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরুরি রোগী হলে তাদের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবকাঠামোগত বড় ধরনের সমস্যা না থাকলেও বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও উন্মুক্তভাবে প্রস্রাব করার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সন্ধ্যার পর হাসপাতাল এলাকা মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ইকবাল হোসেন ও হারিছ মিয়া জানান, দ্রুত একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে এলাকার হাজারো মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। একইসঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণেরও দাবি জানান তারা।
উপসহকারী মেডিকেল অফিসার আক্তার হোসেন বলেন, “চিকিৎসক না থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। একজন ডাক্তার নিয়োগ হলে এলাকার মানুষ আরও ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুসরাত জাহান বলেন, “চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।”