
X
ইউসুফ আজমান
কুয়ালালামপুরের চেরাসের বাসিন্দা ইউসুফ আজমান। চলতি বছর হজপালনের জন্য এখন মক্কা নগরীতে অবস্থান করছেন। ইউসুফ আজমানের জন্য, হজপালনের সুযোগ এমন একটি পরিকল্পনার ফল, যা তার শৈশবেই শুরু হয়েছিল।
হজের জন্য মালয়েশিয়া থেকে রওনা হওয়ার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার মায়ের প্রতি। তার ভাষায়, ‘আমার হজযাত্রা সম্ভব করার জন্য আমার মায়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং ত্যাগ রয়েছে। যা ছাড়া আমার এটা সম্ভব হতো না। ২০০৮ সালে আম্মা হজের জন্য আমার নাম নিবন্ধন করান। এর পর থেকে বছরের পর বছর ধরে তিনি সঞ্চয় করে আসছেন। এবার আমি হজের জন্য নির্বাজিত হয়েছি।’
স্থানীয় একটি হজ গ্রুপের সঙ্গে ইউসুফ আজমান মক্কা ভ্রমণ করছেন। বয়সে ছোট হওয়ায় বয়স্ক হাজিরা তাকে নানাভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করছেন।
ইউসুফ বলেন, আম্মার এই প্রচেষ্টা ও দূরদর্শিতার জন্য তিনি ভাষায় প্রকাশ করার চেয়েও বেশি কৃতজ্ঞ। তার ভাষায়, ‘ধন্যবাদ, মা! তুমি যদি এত অল্প বয়স থেকে আমার জন্য সঞ্চয় ও পরিকল্পনা শুরু না করতে, তাহলে হয়তো আজ আমি এই সুযোগ পেতাম না।’
ইউসফ আরও বলেন, মক্কায় পৌঁছানোর পরই তার মায়ের ত্যাগের প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘এখানে পৌঁছানোর পর আমি বুঝতে পারি যে, আমার মা শুধু এই দুনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবছিলেন না, বরং আমি শিশু থাকা অবস্থাতেই পরকালের জন্য আমাকে প্রস্তুত করছিলেন।’
রয়্যাল মিলিটারি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ইউসুফ হজকে তার জীবনের অন্যতম অর্থবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবারের কোনো সদস্য ছাড়া ইউসুফের এটা প্রথম বিদেশ ভ্রমণ।
তিনি বলেন, তার বাবা-মা ও বেশ কয়েকজন ভাইবোন ইতোমধ্যেই হজ সম্পন্ন করেছেন এবং এ বছর তার পালা এসেছে।
ইউসুফ বলেন, একা আসলেও তিনি কখনও একাকীত্ববোধ করেননি। তার দলের বয়স্ক হজযাত্রীরা তার সঙ্গে সদয় আচরণ করেছেন এবং তাকে নিজেদের একজনের মতোই দেখভাল করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এই দলের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী। আমার রুমমেটদের সবার বয়স পঞ্চাশ বা ষাটের কোঠায়, কিন্তু তারা আমাকে নিজেদের সন্তানের মতো দেখেন। তারা সবসময় আমার খোঁজখবর নেন, জিজ্ঞেস করেন আমি খেয়েছি কি না বা ঘরে ফিরেছি কি না।’
ইউসুফ বলেন, ‘এখানে আমি শুধু ইবাদত-বন্দেগি সম্পর্কে নয়, বরং জীবন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভ্রাতৃত্বের অর্থ সম্পর্কেও শিখছি।’