
X
সাদিক কায়েম ও আসিফ মাহমুদ
একদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আরেক দিকে ছাত্রশিবিরের পরিচিত মুখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম, যাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দুই সহযোদ্ধা এখন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের বিপরীতে দুই ভিন্ন মেরুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
দুইজনের প্রার্থিতা ঘিরে দুজনের দলের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। আলোচনা চলছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনলাইন-অফলাইনে কথার লড়াইও থেমে নেই। ফলে দুজনের প্রার্থিতা জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর সংসদের জোটবদ্ধ থাকা জামায়াত ও এনসিপির সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে— এমনটিও মনে করছেন দুই দলের নেতাকর্মীসহ তরুণদের অনেকে।
আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হবেন, তা অনুমিতই ছিল। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও এসেছে। দলীয় প্যাডে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সাদিক কায়েমেরও জামায়াত থেকে প্রার্থিতা নিশ্চিত, তা দলের দায়িত্বশীলরাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন।
জামায়াত-শিবিরের এই প্রস্তুতির সমান্তরালে এনসিপিতে তৈরি হয়েছে এক গভীর অস্বস্তি। আসিফ মাহমুদের সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে দেখছেন জুলাই আন্দোলনের সময়কার ঐক্যের ফাটল হিসেবে। দুপক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থানকে কেবল একটি পদের লড়াই নয়, বরং এটি আসলে জুলাই বিপ্লবের জনসমর্থন কার থলেতে যাবে— সেই মালিকানা দখলেরও এক নীরব লড়াই হিসেবে দেখছেন অনেকে।
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই আসিফ মাহমুদ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে শুরু করেন। গত ২০ এপ্রিল তিনি ফটিকছড়িতে গিয়ে হেফাজত আমিরের দোয়া নেন। একে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ধর্মীয় ভোটব্যাংক নিজের অনুকূলে টানার সুচিন্তিত কৌশল বলছেন বিশ্লেষকরা। আসিফ মাহমুদ তার প্রার্থিতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে আমাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদপ্রার্থী হতে বলেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত নয়।’
আসিফ ওই সময় আরও বলেন, ‘আমাকে দলের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। হুজুরের কাছে দোয়া নিতে আসার এটিও একটি উপলক্ষ্য।’ আসিফের এই বক্তব্য সরাসরি বার্তা দিয়েছিল, তিনি কেবল এনসিপির প্রার্থী হতে চান না, বরং তিনি চান সর্বদলীয় একটি প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব দিতে।
তখন পর্যন্ত আসিফের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছিল বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে। আদালতের রায়ের পরও তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে বসতে পারেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফের সঙ্গে এ নিয়ে তার তীব্র টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ বৈরিতায় রূপ নেয়। বর্তমানে বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও সেসব দায়িত্ব ছেড়ে ইশরাক ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে দলে।
বিএনপি থেকে অবশ্য ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা মো. আবদুস সালাম, যিনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্যও মাঠ গোছাচ্ছেন।
রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমও আলোচনায় আছেন, যিনি ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচনায় থেকেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে আসিফ মাহমুদের দুশ্চিন্তা শুরুর আগেই চমক হয়ে আসে সাদিক কায়েমের নাম। কাকরাইলের আইডিইবি হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, যা এনসিপির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যলেঞ্জ হয়ে আসে। কারণ দল দুটি জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সংসদেও তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবেই রয়েছে।