
X
ডা. শফিকুর রহমান
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামী আগে থেকে অবগত ছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার (১৫ মে) রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এটি নতুন কিছু নয়। যখন এই প্রশ্ন উঠেছে তখন আমি নিজেই আমার একটা বক্তব্য দিয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের এ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। এখনও আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষ আমাদের সাথে একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনে দলীয়করণ ও কোনো শঙ্কা রয়েছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী দল। গণতান্ত্রিক পন্থায় এই দেশের নেতৃত্বের পরিবর্তন চাই। কাজেই আমরা সকল নির্বাচনে করেছি, এবারও আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ। তবে, আমরা শঙ্কিত আদৌ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন দুটি উপ-নির্বাচনের কি অবস্থা। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। জাতীয় নির্বাচনের মত জনগণ যেন নিজের অধিকারের পক্ষে সজাগ থাকে সেই আহ্বান করছি। কারণ সকল রোগের ঔষধ হলো জনগণের ম্যান্ডেট। জনগণ জাগলে কেউ কিছু করতে পারবে না।
একনেকে পাস হওয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের জন্য সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের জন্য স্বাগত জানাই। কিন্তু এই কাজটি তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে এবং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর ভিন্ন কিছু আমরা চাই না।
পশ্চিমবঙ্গে প্রাদেশিক সরকার পরিবর্তন ও সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, আমরা এর নিন্দা জানাই। এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দুনিয়ার যেখানেই এরকম অপকর্ম হবে আমরা তার নিন্দা জানাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া ও কোনো দেশের সংবিধানও দেয়নি। কেউ যদি এটা করে সেটা মানবতার বিরুদ্ধে জুলুম, আমরা সেটার সবসময় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের পক্ষে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে। সরকার সেই গণভোটের রায়কে অপমান-অগ্রাহ্য করেছে। গণভোটের রায়কে বাদ দেওয়া বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে দেওয়া হবে না। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদ ও সংসদের বাইরে লড়াই চালিয়ে যাব। গণভোটের রায় একদিন বাস্তবায়ন হবে।
জাতীয় সংসদ তামাশা করার জায়গা নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংসদে প্রত্যেকটি মিনিটে জনগণের এক লাখ ছিয়াত্তর হাজার টাকা খরচ হয়। এটা তামাশা করার জায়গা নয়। এটা আমার বাবার টাকায় চলে না, কারো বাবার টাকায় চলে না। এটা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে। সুতরাং এখানে আমাদের দায় আছে। কথা বলতে এখানে হিসাব আছে, যা তা বলা যাবে না। এখানে জনগণের কল্যাণের জন্য কথা বলতে হবে। আমাদের লড়াই এই নীতির ভিত্তিতে চলবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে শুধু সমর্থন দেব না, সহযোগিতাও করব। যদি সরকার কোনো মন্দ কাজ করে, অপকর্ম করে, রুখে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ্। আমরা ছেড়ে দেব না কাউকে। আমরা আস্থার রাজনীতি করতে চাই, বিরোধিতা করার জন্য রাজনীতি করতে চাই না।