
X
আসন্ন কমিটিতে আলোচনায় যারা
সরকার গঠনের পর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি। গুরুত্বের বিবেচনায় ঢাকা মহানগর যুবদলের দুই কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ দাপিয়ে বেড়ানো এক ডজনের বেশি নাম নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে।
২০২৩ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলে খন্দকার এনামুল হক এনামকে আহ্বায়ক ও রবিউল ইসলাম নয়নকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। ফলে অনেক পরিশ্রমী ও ত্যাগীদের যুবদলের কমিটিতে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিএনপি সরকার গঠনের পর ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কমিটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটির গুঞ্জনের মধ্যে হাইকমান্ডে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আলোচনায় থাকা ডজনখানেক নেতা তৃণমূলে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। চষে বেড়াচ্ছেন শাহবাগ, ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, মতিঝিল, পল্টন, রমনা, শাহজাহানপুর, লালবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, বংশাল, ওয়ারী,যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, কদমতলী, শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন মহল্লা।
নতুন কমিটির বিষয়ে আলোচনা শুরুর পর বেশ কয়েকজন পদ প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। যদিও তারা জানিয়েছেন, কবে নাগাদ নতুন কমিটি আসতে পারে এ বিষয়ে কেউ অবগত নন। তারা বিএনপির শীর্ষ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সীদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা বলছেন, কমিটি এখন হোক বা পরে তারা তাদের কার্যক্রম আরো আগে থেকেই চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলে শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও আলোচনায় রয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই -আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য অবদান রাখায় সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি পান নয়ন। এরআগেও জীবন বাজি রেখে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করেন তিনি। আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফের রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার জন্য বিএনপিতে তার গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।
আলাপকালে রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, আমি কোনো ক্যান্ডিডেট না। আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব আমাকে যেখানে রাখবে আমি ঠিক সেখানে থেকেই রাজনীতিটা করতে চাই। আমার নির্দিষ্ট কোনো চাওয়া নাই। উনি যদি মনে করেন আমি কমিটিতে আসার মত যোগ্য না, তাহলে কমিটিতে রাখবে না, উনি যদি মনে করেন আমি এই জায়গার মেম্বার হব তাই। আমার কোনো চাওয়া পাওয়া নেই দলের প্রতি। শ্রম দিয়ে যাই দলকে সুসংগঠিত করে রাখার চেষ্টা করি দল যেখানে মূল্যায়ন করবে আমি সেখানে থেকেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করব।
সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সফল নেতৃত্বের পর কেন্দ্রীয় ছাত্ররাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের জুয়েল-হাবিব কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক এবং রাজিব-আকরাম কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ফয়সাল আহমেদ সজল বলেন, আমি বিএনপি পরিবারের একজন ক্ষুদ্র কর্মী। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে ধারণ করেই আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বে থাকাকালীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিটা অলিগলিতে থেকে আওয়ামী বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দল ইতিপুর্বে যখন যেখানে দ্বায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতে যেখানে যোগ্য মনে করবে আর দ্বায়িত্ব দিবে সততা আর নিষ্ঠার সাথে পালন করব।
সভাপতির দৌঁড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান দক্ষিণ যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফফার। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলকে সু-সংগঠিত করতে নিরলস কাজ করেছেন তিনি। ৫টি মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয় তাকে। চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দক্ষিণ যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
এম এ গাফফার বলেন, দল যদি যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেয় যথাযথ পালন করবো। না দিলেও দলের হয়েই কাজ করবো। দলের জন্য কাজ করছি দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হয়ে দলে বেঁচে থাকতে চাই।
এছাড়াও সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফুর রহমান বিপ্লব।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আসিফুর রহমান বিপ্লবের নাম সভাপতি পদের জন্য আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে অনন্য সাহসী ভূমিকার জন্য পছন্দের তালিকায় সবার আগে রয়েছেন বিপ্লব। সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্লিন ইমেজ এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
আসিফুর রহমান বিপ্লব বলেন, আমাদের মূল পরিচয় হচ্ছে, আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। এই পরিচয়েই আমরা গর্বিত।দেশ ও দলের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা যেন সবসময় রাজপথে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারি, এটাই আমাদের একমাত্র কামনা।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সাধারণ সম্পাদক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পন্ডিত, রাফিজুল হাই রাফিজ, সাবেক সদস্য ও মতিঝিল থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান খান ইমন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না, সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম।
আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, ছাত্ররাজনীতিতে অর্জিত অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতেও ভূমিকা রাখতে সর্বচ্চ চেষ্টা করব। যুবদলকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় সংগঠনে পরিণত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল যুবদল গড়ে তুলব।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং ধানমন্ডি থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি। সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে জ্যাকিকে। ঢাকা মহানগরে ৮টি থানায় ৮৬টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার আসামি জ্যাকি। এপর্যন্ত ৫ বার কারাবরণ করেন ও ৮ মাসের অধিক সময় কারাবাসে ছিলেন। ২৭ দিন রিমান্ডের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।