
X
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত ও নোংরা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে একটি কুচক্রী মহল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও স্পর্শকাতর তথ্য ছড়িয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার খুনির ছবি দিয়ে আমিনুল হকের নির্বাচনী ফেস্টুন বানিয়ে একটি সম্পাদিত ছবি ভাইরাল হয়। ছবিটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, সেখানে এ ধরনের কোনো ব্যানার বা পোস্টার কখনো লাগানো হয়নি। তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি একটি ভুয়া ও এডিট করা ছবি।
দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমিনুল হককে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা শুরু হয়। তাদের মতে, রাজধানীতে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি, তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, একটি মহল চায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে দুর্বল করতে। আর সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে আমিনুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা দাবি করেন, এসব অপপ্রচারের নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পড়েছিল। বিশেষ করে ঢাকা-১৬ আসনে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, যার প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন বলেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই একটি পক্ষ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করছে। তার মতে, আমিনুল হক রাজপথের পরীক্ষিত নেতা। তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব না হওয়ায় এখন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য জুয়েল রানা বলেন, একটি সুপরিকল্পিত চক্র ধারাবাহিকভাবে আমিনুল হকের বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। কখনো ভুয়া ছবি, কখনো বিকৃত তথ্য, আবার কখনো পুরোনো ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোনো সত্যতা নেই।
মিরপুর বিভাগের যুবদলের এক নেতা বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কারণ আমিনুল হকের নেতৃত্বে উত্তর বিএনপি মাঠে অনেক বেশি সক্রিয় ও সংগঠিত হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী বলেন, ভাইরাল হওয়া ফেস্টুনের বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। সেখানে এমন কোনো পোস্টার বা ব্যানার লাগানো হয়নি। এটি সম্পূর্ণ এডিট করা এবং পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল নেতা তারিকুল ইসলাম রাব্বি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছিল। এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও পড়ে। বিশেষ করে ঢাকা-১৬ আসনে অপপ্রচারের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া একটি নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে যে কেউ ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করতে পারছে, যা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নিজের নামে এমন আপত্তিকর অপপ্রচারের প্রতিক্রিয়ায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, এসব প্রচারণা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং সস্তা এডিটিং। আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জঘন্য মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সচেতন জনগণ কখনোই এই ধরনের নোংরা গুজবে কান দেবে না।