‘আপনি টাকা খেয়েছেন, এটা আমি বলিনি’, ফোনকলে হাসনাতকে জেলা পরিষদ প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক

সোশ্যাল মিডিয়া

কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে

2026-05-31T09:16:59+00:00
2026-05-31T09:16:59+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
‘আপনি টাকা খেয়েছেন, এটা আমি বলিনি’, ফোনকলে হাসনাতকে জেলা পরিষদ প্রশাসক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:১৬ এএম   (ভিজিট : ১০৪)
হাসনাত আবদুল্লাহ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া
X

হাসনাত আবদুল্লাহ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া

কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এ অভিযোগ করেন। 

তবে এ বক্তব্যের পর শনিবার রাতেই বিষয়টি জানতে প্রশাসককে ফোন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ফোনালাপে মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, তিনি বলেননি যে হাসনাত ব্যক্তিগতভাবে ওই টাকা নিয়েছেন বা ‘টাকা খেয়েছেন’।

ফোনালাপটি নিজের ফেসবুক একাউন্টে শেয়ার করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

ওই ফোনলাপে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়াকে বলতে শুনা যায়, না, না, না। রাজস্ব খাত না, সব খাত মিলিয়ে আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে আপনার এলাকায় গেছে। 

আমি বলতে চেয়েছি, আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন। এখন আপনার উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকা গেছে, আর ওই উপজেলায় গেছে ১৫ কোটি টাকা। আপনি টাকা খেয়েছেন, এটা তো আমি বলিনি।

এর জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান, আপনি কী বলছেন? উত্তরে প্রশাসক বলেন, আমি বলছি, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা দুই উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন।

তখন হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আপনি এটা বলেননি। জবাবে মোস্তাক মিয়া বলেন, না, না, ওইটাই বলেছি। হয়তো মিডিয়াতে পুরো বক্তব্য আসেনি। 

আমি বলতে চেয়েছি, আপনার এলাকায় কাজের জন্য টাকা নেয়া হয়েছে। কাজ ছাড়া তো টাকা দেয়া হবে না। সাংবাদিকরা আমাকে প্রশ্ন করেছিল, আমি সেটারই উত্তর দিয়েছি। আপনি টাকা খেয়েছেন- এটা আমি বলিনি।

এর আগে শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় একটি গণমাধ্যমকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, সেটি উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট। সেই টাকা তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেয়া হয়নি।

একই দিন দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। একইভাবে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা।

এ সময় মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, এই হলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের অবস্থা। তারা মুখে বাংলাদেশের সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তা ছিল না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাদের চরিত্র ছিল ভিন্ন।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তা দ্বারা তিনি উপজেলার জন্য বাজেট বরাদ্দ নেয়ার বিষয়টি বুঝিয়েছেন। ওই অর্থ তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেয়া হয়নি। কারণ বাজেটের অর্থ কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না, বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলাকে দেয়া হয়।

হাসনাত আরও বলেন, দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন খাতে এবং কী কাজে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছেও অর্থ ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষিত আছে। তারা চাইলে সেই তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

তিনি বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলাকে ৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ অর্থ এডিপি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, যেন আমরা নিজেরা সেই টাকা পকেটে নিয়েছি। অথচ দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, বরং এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।




  বিষয়:   কুমিল্লা  এনসিপি  হাসনাত আবদুল্লাহ 



Loading...
Loading...


সোশ্যাল মিডিয়া এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy