প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম (ভিজিট : ৩৩)

X
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) মঙ্গলবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে উইকেট পাওয়ায় মোহামেডানের ডানহাতি পেসার নাহিদ রানাকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস-ইন্টারনেট
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) ১৬ বছর ধরে শিরোপা জেতা হয়নি মোহামেডানের। এবার শিরোপার লক্ষ্যে শক্তিশালী দল গঠন করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। শিরোপার রেসে টিকে থাকতে হলে মঙ্গলবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততেই হতো মোহামেডানকে। এদিন তাওহিদ হৃদয় ও এনামুল হক বিজয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর নাহিদ রানা, তাইবুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিংয়ে ১০৭ রানের বড় ব্যবধানে রূপগঞ্জকে হারিয়েছে তারা। আর সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।
মঙ্গলবার আগে ব্যাটিং করে মোহামেডান ৩৩৯ রানের পাহাড় গড়ে। আর কঠিন সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলিকে (৫) হারায় রূপগঞ্জ। এরপর শুরু হয় আগ্রাসী ব্যাটিং। গত মাসে পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য নাহিদ রানা হয়ে উঠেছিলেন বড় এক আতঙ্কের নাম। সেই নাহিদকেই দারুণভাবে সামলালেন রূপগঞ্জের ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। বিশেষ করে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে নাহিদের ওপর চড়াও হয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন তিনি।
ওভারের প্রথম বলে চার দিয়ে শুরু করেন সোহান। দ্বিতীয় বলে হাঁকান ছক্কা। তৃতীয় বলটি ছেড়ে দিলেও পরের দুই বলে টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি। ওভারের শেষ বলেও আসে চার। সব মিলিয়ে নাহিদের ওই ওভার থেকে সংগ্রহ করেন ২৬ রান। ওভার শেষে মাত্র ১৩ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন সোহান।
বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির একক রেকর্ড গড়ার সুযোগও তৈরি হয়েছিল তার সামনে। পরের বলেই চার মারতে পারলে নতুন রেকর্ড হয়ে যেত। যদিও সেটি পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৫তম বলে বাউন্ডারি মেরে অর্ধশতক পূর্ণ করে যৌথভাবে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে রেকর্ডে ভাগ বসান সোহান। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৫৯ রান করেন। তার ঝড়ো ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা।
সোহানের বিদায়ের পর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রূপগঞ্জ। এরপর বাকি ৭৪ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। অষ্টম উইকেটে মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদ মিলে মোহামেডান শিবিরে ৬৯ রানের জুটি গড়ে কিছুটা চাপ তৈরির চেষ্টা করেন। যদিও ৩৭ রান করা মেহেদীকে ফিরিয়ে ড্রেসিংরুমে স্বস্তি এনে দেন তাইবুর। এরপর উইকেটে জমে যাওয়া নাসুমকে ফেরান নাহিদ রানা। সোহানের পর নাসুমের ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ৪০ বলে এই স্পিনার খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস।
নাহিদ রানা কিছুটা খরুচে বোলিং করলেও উইকেট নিয়েছেন ৪টি। প্রথম ওভারে ২৬ রান দেওয়া নাহিদ ৭ ওভারে ৭১ রান খরচ করে ৪ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া তাইবুর ৩টি এবং সাইফউদ্দিন ২টি উইকেট নেন। তাইজুল ইসলাম শিকার করেন ১টি উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৩৯ রান তোলে মোহামেডান। ১০১ রান করেন হৃদয়। এছাড়া বিজয় ৭১ ও আফিফ হোসেন করেন ৭০ রান।
আর এই জয়ে ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল মোহামেডান। লিগে বাকি আছে আরও ৩ ম্যাচ। সবকটি জিততে পারলে ১৬ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে মোহামেডান। আর পরের দুই ম্যাচ জিতলেও আবাহনীর বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে তাদের জন্য।