যুবদলের নতুন কমিটিতে সৌভাগ্যবান যে ৫৫ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর

2026-06-05T18:35:21+00:00
2026-06-05T18:35:21+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
যুবদলের নতুন কমিটিতে সৌভাগ্যবান যে ৫৫ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ২৪৯৬)
জাতীয়তাবাদী যুবদল
X

জাতীয়তাবাদী যুবদল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলেও সংগঠনের ভেতরে এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সন্তুষ্টি থাকলেও, অন্যদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ পেয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত কমিটিতে কিংবা পদহীন থাকা অন্তত ৫৫জনকে জায়গা দেয়া হয়েছে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে, যারা বিগত আওয়ামী সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে মাঠে ছিলেন না। 

এ দিকে গত বেশ কিছুদিন ধরে যুবদল পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আলোচনা যেমন ছিল, তেমন পদপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা ছিল নতুন নেতৃত্ব দিয়ে সাজানো হবে কেন্দ্রীয় যুবদল। সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় অনেকেই আশাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের কথা জানান।

আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে রেজাউল কবীর পল সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিল্লাল হোসেন তারেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কামরুজ্জামান জুয়েল সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে সহ-দপ্তর সম্পাদক করে মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়াকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

তিন বছরমেয়াদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষের বছরখানেক আগে দেওয়া এই কমিটিকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘সান্ত্বনার পূর্ণাঙ্গ’ হিসেবেই দেখছেন। তারা মনে করছেন, পদপত্যাশী নেতাকর্মীদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার জন্য সাময়িক এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি। 

পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বহুদিন ধরে যাদের কোনো রাজনৈতিক ঠিকানা ছিল না, ছাত্রদলের এমন সাবেক নেতারা যেমন জায়গা পেয়েছেন কমিটিতে; তেমনি যুব সংগঠনের নেতৃত্বে পুরোনো নেতাদের ওপর আস্থা রেখেছে বিএনপি। কমিটিতে একদিকে যেমন ত্যাগীরা মূল্যায়িত হয়েছেন, তেমন বাদ পড়েছেন জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাও। এ ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। 

যুবদলের বিগত কমিটিতে ছিলেন, কিন্তু নতুন কমিটিতে মূল্যায়িত হননি এমন একজন নেতা বলেন, ‘যুবদলের বিগত (টুকু-মুন্না) কমিটির ২৫১ জনের মধ্যে অন্তত একটি মিছিল করেছেন এমন ৬২ জন নেতা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন বঞ্চিত হয়েছেন এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে।’

সংগঠনের আগের কমিটির (টুকু-মুন্না) হেভিওয়েট নেতাদের অনেককেই রাখা হয়নি এই কমিটিতে। তাদের মধ্যে আগের কমিটির সহসভাপতি পর্যায়ের রুহুল আমিন আকিল, মাহবুবুল হাসান পিংকু, দীপু সরকার, কামরুজ্জামান দুলাল অন্যতম। যুবদলের আরেকজন হেভিওয়েট নেতা সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনকেও কোথাও রাখা হয়নি।

এ দিকে কমিটিতে জায়গা না হওয়ায় অনেকেই দারুণ ক্ষুব্ধ। ‘যুবদল কেন্দ্রীয় ফোরাম’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা। 

একজন সেখানে লেখেন, ‘মোনায়েম মুন্না ও নুরুল ইসলাম নয়ন ভাইয়ের প্রতি নেতাকর্মীদের বিশ্বাস ও আস্থা ছিল অনেক। মিছিলের জন্য হাজারো নেতাকর্মীর দরকার হতো। কিন্তু কমিটির ক্ষেত্রে যত ছোট আকারে করা যায়-এটা যদি নিয়ম হয়, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। আপনারা যে কমিটি দিয়েছেন, ২৮ অক্টোবরের পর তাদের ৫০জনকেও মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায়নি।’ আরেকজন লেখেন, ‘মুখে মুখে শুধু দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন, বাস্তবতা পুেরা ভিন্ন। দলের কার্যক্রম এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে মাঠে আর কেউ রাজনীতি করবে না।’ 

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সংগঠনের কয়েকজন জেলা সভাপতি-আহ্বায়ককে সরাসরি সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না হজ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন। তিনি দাবি করেন, ‘যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীরাই স্থান পেয়েছেন। একটা কথা বলব, পুরনোদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আস্থা ও বিশ্বাসের একটা বিষয় আছে। আশা করি, যুবদল সে আস্থার প্রতিদান দিতে সক্ষম হবে।’

কমিটিতে ২৯ জন সহসভাপতি, ২৯ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২৩ জন সহসাধারণ সম্পাদক, ১২ জন সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ৫ জন আইনবিষয়ক সম্পাদক রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটিতে মাত্র ১১ জনকে সদস্য করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ সদস্যকে সহসাধারণ সম্পাদকের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্য সহসভাপতিরা হলেন জিয়াউর রহমান, কামাল আনোয়ার আহাম্মদ, মাহফুজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম (দুলাল), শাহ আলম চৌধুরী, সাইদুর রহমান, সাব্বির আহমেদ (দিপু), আবদুল জব্বার খান, খন্দকার এনামুল হক, শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ইয়াসিন ফেরদৌস (মুরাদ), রফিক আহমেদ (ডলার), সাইদ ইকবাল মাহমুদ (টিটু), মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ, মাহমুদুস সালেহীন, আতিকুর রহমান, জাকির হোসেন (উজ্জ্বল), এইচ এম তসলিম উদ্দিন, নাজমুল আলম, মো. আনোয়ারুল হক, আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র), রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য), ফেরদৌস আহমেদ (মুন্না), তরিকুল ইসলাম (টিটু), লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মঞ্জুরুল আজিম (সুমন), আজিজুর রহমান আকন্দ ও নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)।

প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিল্লাল হোসেন তারেককে। অন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকেরা হলেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম (সোহাগ), আবু আতিক আল হাসান, শাহ নাসির উদ্দিন (রুমন), কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া, মঈনুদ্দীন রুবেল, আজহারুল ইসলাম (মিলন), এজমল হোসেন (পাইলট), ইখতিয়ার রহমান (কবির), রবিউল ইসলাম (নয়ন), সাজ্জাদুল মিরাজ, মিঞা মোহাম্মদ রাসেল, আবদুল করিম সরকার, শফিকুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, আবুল মনসুর খান (দীপক), খন্দকার আল আশরাফ (মামুন), আইয়ুব খান, শামসুজ্জোহা সুমন, তারেক উজ জামান তারেক, শোয়াইব খন্দকার, আশরাফুর রহমান (বাবু), আসাদুজ্জামান আসাদ, মো. আবদুল ওয়াহাব, হারুন অর রশীদ (হিরো) (সৌদি আরব), এম তমাল আহমেদ, সাজেদুল ইসলাম ও মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)।

সহসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন হাসান আল মামুন লিমন, মাসুদ খান পারভেজ, এন এম আবদুল্লাহ উজ্জ্বল, মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, গিয়াসউদ্দিন মামুন, মামুন হোসেন ভূঁইয়া, রাহাদুল আলম খান, রুহুল ইসলাম (মনি), জাহিদ হাসান, আবু বকর সিদ্দিক পাভেল, খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন, সাখাওয়াত হোসেন (চয়ন), মাহবুবুর রহমান পলাশ, আরিফুল হক আরিফ, কামরুল হাসান খান সাইফুল, মাহবুবুর রহমান, আলমগীর কবির (সেলিম), মজিবর রহমান ভূঁইয়া (সবুজ), মেহেদী হাসান জুয়েল, মো. মাসুদুল হক, সাহাবুদ্দিন মুন্না, সামসুল আলম রানা ও আবুল বাসার সিদ্দিকী।

সহসাংগঠনিক সম্পাদকেরা হলেন এম এ গাফফার, আশরাফ ফারুকী (হীরা), মিজানুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সোহেল আলম, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার, সাইদুর রহমান (শামীম), রবিউল ইসলাম, আরিফুর রহমান, মাইনুল ইসলাম, খন্দকার রিয়াজ ও মো. রাশেদুল ইসলাম।

প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে আল মেহেদী তালুকদারকে। সহপ্রচার সম্পাদক হয়েছেন তারেকুর রহমান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আশরাফ জালাল খান মনন। সহসাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন সাইদুর রহমান সোহেল। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক করা হয়েছে আমিনুর রহমান আমিনকে। কোষাধ্যক্ষ পদ পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রোকন।

আইনবিষয়ক সম্পাদকেরা হলেন মুর্তজা কামাল মোস্তাক, ইউনুস আলী (রবি), নূরে আলম সিদ্দিকী (সোহাগ), তানভীর হাসান (সোহেল) ও গাজী মো. মাসকুরুল আলম (সৌরভ)।

এ ছাড়া কৃষিবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির (লিংকন), শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মণ্ডল, শিল্পবিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈম, যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম (রুমন), গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মহিন উদ্দিন (রাজু), বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক কে এস এম মুসাব্বির শাফী, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইমরান আহমেদ প্রিন্স, মৎস্য ও পশুপালনবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক গালিব হাসান ও বেলাল হোসেন নাজিম।

আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে খায়রুজ্জামান লিঙ্কনকে সহসভাপতি পদমর্যাদায় এবং এ আর মামুন খান ও মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল আলম আকতার। প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান। পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূঁইয়া। সহপাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আল আমিন। এ ছাড়া বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও সদস্যপদসহ মোট ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে এই কমিটি কাজ করবে। কমিটি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রাখবে।





Loading...
Loading...


রাজনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy