নীরব ত্যাগের গল্পে লেখা ‘বাবা’

চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ

লাইফস্টাইল

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। পৃথিবীর নানা দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার দিনটি বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা

2026-06-21T14:09:51+00:00
2026-06-21T15:16:14+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
নীরব ত্যাগের গল্পে লেখা ‘বাবা’
চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ২:০৯ পিএম  আপডেট: ২১.০৬.২০২৬ ৩:১৬ পিএম  (ভিজিট : ১০৫)
নীরব ত্যাগের গল্পে লেখা ‘বাবা’
X

নীরব ত্যাগের গল্পে লেখা ‘বাবা’

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। পৃথিবীর নানা দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার দিনটি বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে পালিত হয়। পরিবারে একজন বাবা শুধু অভিভাবক নন; তিনি একজন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, সাহসের উৎস, নিরাপত্তার আশ্রয় এবং জীবনের কঠিন পথচলার নীরব সহযাত্রী। 

বাবা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাবা শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়, তিনি আস্থা, আশ্রয় এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আরেক নাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সন্তানের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক আচরণ গঠনে বাবার সক্রিয় উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইতিহাসে বাবা দিবসের সূচনা:
প্রথম ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী। তিনি তার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার বাবা একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে দিনটি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে বাবা দিবসের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়।

বাবার ভালোবাসা প্রকাশ পায় দায়িত্বে:
সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে মায়ের ভালোবাসা যেমন সহজেই দৃশ্যমান হয়, বাবার ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ পায় দায়িত্ব, ত্যাগ এবং নীরব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। একজন বাবা জীবনের বড় একটি অংশ ব্যয় করেন পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে এবং নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে। অনেক বাবা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেন। সন্তানের একটি হাসি, একটি সফলতা কিংবা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার খবরই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে ওঠে। অথচ এসব ত্যাগের গল্প খুব কমই আলোচনায় আসে।

বদলে যাচ্ছে বাবার ভূমিকা:
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারে বাবার ভূমিকারও পরিবর্তন এসেছে। একসময় বাবাকে পরিবারের উপার্জনকারী হিসেবেই বেশি দেখা হতো। এখন অনেক বাবা সন্তান লালন-পালন, পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং দৈনন্দিন যত্নে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। সন্তানের স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, পড়াশোনার খোঁজ রাখা কিংবা অবসরে একসঙ্গে সময় কাটানো এসব ক্ষেত্রেও বাবাদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক আরও বন্ধুত্বপূর্ণ ও গভীর হচ্ছে।

নীরব সংগ্রামের নাম বাবা:
পরিবারের সদস্যদের সুখী রাখতে সমাজে বাবাদের অনেক সংগ্রাম অদৃশ্য থেকে যায়। সংসারের দায়িত্ব, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সবকিছু সামলেও তারা পরিবারকে আগলে রাখেন। অনেক সময় বাবারা নিজেদের কষ্ট বা দুর্বলতা প্রকাশ করেন না। তাই সন্তানরা বড় হওয়ার পর প্রায়ই উপলব্ধি করেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন বাবা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গ্রামের কৃষক বাবা, শহরের চাকরিজীবী বাবা, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা ব্যবসায়ী পেশা ভিন্ন হলেও সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধে সবাই এক।

প্রযুক্তির যুগে দূরত্ব, তবু সম্পর্কের বন্ধন অটুট:
প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারার কারণে বর্তমান সময়ে কর্মব্যস্ততা, নগরজীবনের চাপ পরিবারে সময় দেওয়ার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে কমে গেছে। অনেক সন্তান পড়াশোনা বা চাকরির কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। ফলে বাবা-সন্তানের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব তৈরি হলেও আবেগের বন্ধন অটুট থাকে। বাবা দিবসে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার সঙ্গে স্মৃতি ভাগাভাগি করেন, শুভেচ্ছা জানান কিংবা বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনেই বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন।

বাবাকে বলুন ভালোবাসি:
আমাদের সমাজে অনেক সময় সংকোচের কারণে অনেকেই বাবাকে ভালোবাসি বা ধন্যবাদ বলার সুযোগ পান না। অথচ একটি আন্তরিক কথাই একজন বাবার জন্য হতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার। বাবা দিবসে দামী উপহার নয়, পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো, একটি ফোনকল, একটি চিঠি কিংবা আন্তরিক কৃতজ্ঞতার প্রকাশই হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার। যাদের বাবা আজও পাশে আছেন, তারা তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ হারাবেন না। আর যাদের বাবা পৃথিবীতে নেই, তাদের স্মৃতি, শিক্ষা ও আদর্শই হয়ে থাকে জীবনের পথচলার অনুপ্রেরণা।

বাবা: জীবনের অনন্ত প্রেরণা:
সন্তানের জীবনে একজন বাবা শুধু একজন অভিভাবকই নন; তিনি সাহস, সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার এক জীবন্ত শিক্ষা। সন্তানের সফলতার পেছনে একজন বাবার যে ত্যাগ ও পরিশ্রম থাকে, তার পুরোটা কখনোই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। 

বিশ্ব বাবা দিবসে তাই সকল বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। পরিবার, সমাজ এবং আগামী প্রজন্ম গঠনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। জীবনের প্রতিটি ধাপে ছায়ার মতো পাশে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য একটি দিন হয়তো যথেষ্ট নয়, তবুও বাবা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাবা শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়, তিনি আস্থা, আশ্রয় এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আরেক নাম।






Loading...
Loading...


লাইফস্টাইল এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy